ঈদ মোবারক

ঈদ মোবারক

।। জাফর আহমেদ ।।

ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পশ্চিম আকাশে শাওয়ালের একফালি বাঁকা চাঁদ মুসলিম জাহানের জন্য বয়ে আনে খুশির বার্তা। রাত পোহালেই সোমবার আমাদের দেশে সেই খুশির ঈদ। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ/ তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাকিদ’। মুসলিম জীবনে ঈদ স্রষ্টার এক অমূল্য নিয়ামত। মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার এক স্বর্গীয় মাধ্যম, আসমানি তাকিদ। ঈদ এলেই খুশির বান ডাকে মুসলিম জাহানে।

সারাবিশ্বের মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব এই ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশেও চলে ঈদের প্রস্তুতি। পবিত্র মাহে রমজানে রোজা, ইফতার, তারাবিহ, লাইলাতুল কদর পালন, কুরআন তিলাওয়াত, জাকাত-ফিতরা ও দান-খয়রাত প্রদান এসব ইবাদতের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায় গ্রহণ করেন আত্মশুদ্ধির মহান দীক্ষা। মাসব্যাপী প্রস্তুতির পর ঈদুল ফিতর আসে তার পূর্ণতার সুসংবাদ নিয়ে। ঈদুল ফিতরের শাব্দিক অর্থ আসলে রোজা ভঙ্গের আনন্দ। এক মাস রোজা পালনের মাধ্যমে একজন রোজাদার যাবতীয় গুনাহ হইতে মুক্ত হইয়া সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর ন্যায় মাসুম বা নিষ্পাপ ব্যক্তিতে পরিণত হন। এতে তিনি যে আত্মিক প্রশান্তি লাভ করেন, তাহারই আনন্দঘন মুহূর্ত হচ্ছে ঈদুল ফিতর।

আইয়ামে জাহিলিয়াত তথা ইসলামপূর্ব অন্ধকার যুগে আরব দেশে উকাজ মেলাসহ নানা প্রকার উৎসব জনপ্রিয় ছিল। সেই সময় মদিনার আনসারগণ ‘মিহিরজান’ ও ‘নওরোজ’ নামে দুইটি উৎসবও পালন করতেন। মহানবি হজরত মুহম্মদ (স) মদিনায় হিজরত করে এই লক্ষ্য-উদ্দেশ্যহীন আনন্দ-উৎসবের পরিবর্তে আত্মশুদ্ধির পবিত্র স্পর্শময় ও বহুবিধ মানবকল্যাণধর্মী ঈদুল ফিতরের প্রবর্তন করেন এবং ঘোষণা করেন-‘লিকুল্লি কওমিন ঈদ, হা-যা ঈদুনা’। অর্থাৎ প্রত্যেক সমপ্রদায়ের নিজস্ব আনন্দ-উৎসব আছে। আমাদের এই আনন্দ-উৎসব এই ঈদ। সেই অনুযায়ী দ্বিতীয় হিজরির পহেলা শাওয়াল তথা ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ মার্চ প্রথম ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। এই ঈদুল ফিতর আমাদের ন্যায়, সাম্য, ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, দয়া, মানবতা, সহানুভূতি ও মহামিলনের শিক্ষা দেয়। ঈদ আমাদের অন্যায়-অবিচার, ঘৃণা-বিদ্বেষ ও হানাহানি-কাটাকাটি হইতে বিরত থাকিতে বলে। কবির ভাষায়—‘আজ ভুলে গিয়ে দোস্ত দুশমন হাত মিলাও হাতে। রোজাদারদের আত্মিক পরিশুদ্ধি লাভের কারণেই আমাদের মধ্যে দূর হয়ে যায় সকল সংকীর্ণতা ও ভেদাভেদ। মূলত ঈদ যে আনন্দের বার্তা বয়ে আনে, তাহার মর্মমূলে রয়েছে শান্তি ও ভালোবাসা। পরস্পরের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হয়ে উঠার এক মহান উপলক্ষ এই ঈদ।

দীর্ঘ সময় ধরে সারাবিশ্বে কোভিড-১৯ অর্থাৎ করোনা ভাইরাসে স্তব্ধ করে রেখেছে। এর মধ্যেই পুরো একমাস রমজানের রোজা রেখেছে মুসলিম জাতি। সিয়াম সাধানার পর সেই কাঙ্খিত ঈদুল ফিতর। মুসলিমদের মাসব্যাপী রোজা ও ঈদুল ফিতরের আগমনে পুরো বিশ্ব হোক করোনা মুক্ত। সাধারণ মানুষ ফিরে পাক স্বাভাবিক জীবন। এমন প্রত্যাশা সবার।

বিশ্বে ন্যায় পুরো দেশও আজ করোনা থাবা অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ঘুরছে না জীবন চাকা। বন্ধ রয়েছে র্অথনৈতিক মেরুদন্ড। দেশের মানুষকে সরকারি ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এবং মহান আল্লাহর ক্ষমাই পারে এই মহামারী থেকে দেশ ,জাতি তথা পুরো বিশ্বকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে।

প্রিয় টাঙ্গাইলবাসী, ধীরে ধীরে করোনভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে টাঙ্গাইলে। প্রতিদিনই আক্রান্তু বাড়ছে। হিসেবের খাতায় সুস্থতার সংখ্যা যোগ হলেও মৃত্যুর সংখ্যা ভাবিয়ে তুলেছে। সুতারাং টাঙ্গাইলবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে। একমাত্র সচেতনতাই পারে আমাদেরকে সুরক্ষা দিতে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঈদে চাকরিজীবীরা গ্রামে ফিরেছেন। তাদের সাথে অবশ্যই সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে চলতে হবে।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, জেলা-উপজেলাতে সহকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। আপনাদের জন্য জাতি আজ ঘরে বসেই সব তথ্য জানতে পারছেন। আল্লাহ নিশ্চয়ই এই সেবার উত্তম প্রতিদান দিবেন। আপনারা সুস্থ থাকুন সুরক্ষিত থাকুন।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি সকলের সুখ-শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতি কামনা করি। প্রিয় টাঙ্গাইলবাসী, জেলা-উপজেলার প্রিয় সহকর্মী এবং দৈনিক  মজলুমের কণ্ঠের প্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট ও শুভানুধ্যায়ীসহ সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের অনাবিল শুভেচ্ছা—ঈদ মোবারক।

ঈদ শুভেচ্ছায়-

অ্যাড জাফর আহমেদ

সভাপতি-টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, সম্পাদক-দৈনিক মজলুমের কণ্ঠ, জেলা প্রতিনিধি-দৈনিক যুগান্তর ও বৈশাখী টিভি।

 

 

মজলুমের কণ্ঠ / ২৪ মে /আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles