লকডাউনে সময় কাটছে ঘুড়ি উড়িয়ে !

লকডাউনে সময় কাটছে ঘুড়ি উড়িয়ে !

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রাণঘাতী করোনা আতঙ্কে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব। করোনার ভয়াবহতা বদলে দিয়েছে পুরো পৃথিবীর দৃশ্যপট। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলা মানুষগুলো এখন গৃহবন্দী। এই অবস্থায় নিরাপদে থাকতে স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে বন্ধ সব আউটডোর খেলাধুলা। আর এই লম্বা ছুটিতে বাঙালির ঐতিহ্য রুঙিন ঘুড়ি নিয়ে মেতে আছেন টাঙ্গাইলের তরুণ প্রজন্ম। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের অনেকেই একসাথে ফাঁকা জায়গায় ও বাড়ির সাদে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যায়। অপরদিকে ঘুরে তৈরি করতে ব্যস্ত হয়েছে পড়েছে কারিগররা।

সরেজমিন টাঙ্গাইল শহরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শহরে বাসার সাদে ও গ্রাম অঞ্চলে ফসলি জমির আইল এবং রাস্তার পাড়ে ঘুড়ি উড়াতে দেখা যায়। অনেকেই আবার ঘুড়ির সুতোয় কাটাকাটি খেলে কিংবা দূর আকাশে ঘুড়ি পাঠিয়ে এ যেন করোনাকালীন ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করার এক সুস্থ বিনোদন।

আদালত পাড়া এলাকার বিভাস কৃষ্ণচৌধুরী বলেন, বাড়ীতে দীর্ঘদিন অবস্থান করার ফলে অনেকের মধ্যেই ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করছে। অনেকেই ঘুড়ি উড়িয়ে সেই ক্লান্তি ও অবসাদ ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন। মুক্ত আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে বদ্ধ হয়ে থাকা এক মানসিক যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মেলছে।


কলেজ ছাত্র হাবিবুর রহমান আকাশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ বন্ধ। আগে নিয়মিত কলেজ যেতাম, সময় কাটতো। এখন আর সময় কাটতে চায়না। ছাত্ররা বিকেলে মাঠে খেলাধুলা করতো এখন তো আর সেটা সম্ভব নয়। সবসময় রুমে থাকতে থাকতে আর ভালো লাগে না। এদিকে মা বাবা বাড়ী থেকে বের হতে দেন না। অন্যদিকে একঘেয়েমী কাটাতে বিকেলে এখন সবাই মিলে ঘুড়ি ওড়ানো হয়। এতে মনটা চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

প্রিয়নত ভৌমিক বলেন, এতদিন গৃহবন্দী থেকে হাঁপিয়ে উঠেছে। তাদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার উপায় নেই। শুনলাম এলাকায় নাকি ঘুড়ি উড়ানো হয় থাকে। ওড়ানোর দৃশ্য দেখতে চলে এসেছি। এখন খুব ভালো লাগছে।

আদালত পাড়া এলাকার ঘুড়ি তৈরির কারিগর শুভ বসাক বলেন, আমার স্বর্ণের দোকান রয়েছে। করোনাভাইরাসে কারণে দোকান বন্ধ। তাই বিভিন্ন প্রজাতির ঘুরি বানিয়ে বিক্রি করি। স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, তাজমহল ও বিমানসহ নানা রকমের ঘুরি তৈরি করে থাকি। একজন সহকারি নিয়ে প্রতিদিন ১৫-২০ টা ঘুরি বানানো যায়। ছোট, মাঝারি ও ৩-৪ ফুট আকারের ঘুরিও তৈরি করি। প্রতিটি ঘুরি ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি করি। এতে আমার বেশ লাভ হয়।

বিশ্বাস বেতকা এলাকার অপর কারিগর সবুজ বলেন, আমার শাড়ীর ব্যবসা আছে। করোনাভাইরাসে ঘরেই থাকতে হয়। তাই শখের বসে ঘুরি তৈরি করে বিক্রি করছি। প্রতিটি ঘুরি ৩০-৭০ টাকা ধরে বিক্রি করি।

মজলুমের কণ্ঠ / ০৫ জুন /আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles