কোরবানী হোক মানবতা ও ত্যাগের শিক্ষা

কোরবানী হোক মানবতা ও ত্যাগের শিক্ষা

।। জাফর আহমেদ ।।

কোভিড-১৯ অর্থাৎ করোনাভাইরাস যে মুহুর্তে পুরো বিশ্বটাকে থমকে দিয়েছে, ঠিক সেই মুহুর্তে দেশে যোগ হয়েছে বন্যা। দুটো প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনদুর্ভোগে পরিণত করেছে। রুপ নিয়েছে মহামারিতে। অর্থনৈতিক থেকে সামাজিক সব সবদিকেই মানুষের মাঝে প্রতিটি কাজেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। জনমনে সৃস্টি হয়েছে আতঙ্ক। এমন সময় মুসলিম জাহানের দরজায় কড়া নেড়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। রাত পোহালেই সেই খুশির ঈদ । এই পবিত্র দিনটিতে মুসলমানরা ঈদগাহে গিয়ে একসঙ্গে নামাজ শেষ করে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দেবেন। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব বয়সী মুসলমান ভাবগম্ভীর পরিবেশে নামাজ আদায় এবং পরস্পর কুশলাদি বিনিময়ের পাশাপাশি কোলাকুলি করেন। ঈদগাহে সমবেত সব মুসল্লি আল্লাহপাকের দরবারে মোনাজাত করেন পার্থিব এবং পারলৌকিক কল্যাণের আশায়। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য দুই ঈদই অশেষ সংহতি ও সম্প্রীতি বয়ে আনে। কিন্তু এবারের ঈদুল আজহার নামাজ পড়তে হবে ঈদুল ফিতরের মতোই মসজিদে-মসজিদে। করোনার কারনে এমন সিদ্ধান্ত আমাদের মেনে নিতে হবে।  সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে নিজেকে নিরাপদে রাখতে হবে, সুরক্ষিত রাখতে হবে। তবুও ঈদ হোক আনন্দের।

কোরবানির মাংসের একটি অংশ দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে ঈদের আনন্দ ভিন্নতর মাত্রা পায়। হযরত ইব্রাহিম (আ) যে ত্যাগের উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন, সেটাকেই মর্যাদা দিয়ে বিশ্বের মুসলমানরা ঈদ-উল-আজহা পালন করে আসছেন। মূলত কোরবানির মধ্য দিয়ে আত্মোৎসর্গের এক পরম মহিমার নজির স্থাপন করে গেছেন হযরত ইব্রাহিম (আ)। শরিয়তের বিধান অনুসারে কোরবানির পশুর মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজে, এক ভাগ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের এবং এক ভাগ দরিদ্রদের মধ্যে বিলি করার নির্দেশ রয়েছে। ইসলাম ধর্ম সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পরোপকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ ছাড়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতাকে। পরিতাপের বিষয়, ইসলামের সঠিক বিধিবিধান অনেকেই গুরুত্ব না দিয়ে অবাঞ্ছিত প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। এটা অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

আত্মত্যাগের দিনটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পবিত্র দিন। হিংসা, দ্বেষ, হানাহানি, কুমন্ত্রণা ভুলে পূত পবিত্র মন নিয়ে পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার দিন ঈদ-উল-আজহা। ধনী, দরিদ্র সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষের মাঝে নিজেকে সমর্পিত করার দিন। কোরবানির পশুর মাংস বিতরণ যথাযথভাবে করা সঙ্গত। এতে বন্যাদুর্গত ও দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ উপকৃত হবে। মশক নিবারণসহ সতর্ক থাকতে হবে ডেঙ্গু রোগীদের ব্যাপারেও। পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সকলে মিলে মোকাবেলা করলে কোন সমস্যাই সমাধানের উর্ধে নয়। কোরবানীর এই আত্মত্যাগের শিক্ষা শুধু ঈদের দিনের জন্য নয়। এ শিক্ষা সবার জীবনে আসুক সব কাজের জন্য।

আমাদের প্রত্যেকের ভেতরের পশুটা হোক কুরবানী। পরিশুদ্ধি হোক আত্মার। নতুন করে হোক আমাদের পথচলা।

আমাদের মধ্যে বিদ্যমান পশু প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা জাতীয় নেতিবাচক প্রবৃত্তিকে সরিয়ে ফেলে সহজ-সরল মানবিক গুণাবলী অর্জন করাই হচ্ছে ঈদ-উল-আজহার তাৎপর্য। পবিত্র ঈদ-উল-আজহায় আমাদের প্রার্থনা- আল্লাহপাক যেন বিশ্ব মুসলিমের জাতীয় জীবনকে মর্যাদাশীল করেন।

টাঙ্গাইলে কর্মরত সংবাদকর্মী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব ও বিভিন্ন উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য বৃন্দ, দৈনিক মজলুমের কণ্ঠের পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতাসহ জেলার সকল পেশাজীবি মানুষের প্রতি রইলো পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। সবার জীবন আনন্দময় হোক। ঈদ মোবারক।

সম্পাদক-দৈনিক মজলুমের কণ্ঠ।

সভাপতি-টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব।

জেলা প্রতিনিধি- দৈনিক যুগান্তর ও বৈশাখী টিভি।

Related Articles