মির্জাপুরে নৌকার বাজার আকাশ ছোঁয়া !

মির্জাপুরে নৌকার বাজার আকাশ ছোঁয়া !

মির্জাপুর প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকায় নৌকার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চাহিদার তুলনায় নৌকা প্রস্তুতে রীতিমতো হিমশিম অবস্থায় উপজেলার নৌকা প্রস্তুতকারীরা। আর এই সুযোগে নৌকার মূল্য ২-৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

সরজমিন, সোমবার ( ২৭ শে জুলাই) উপজেলার দেওহাটা কাঠের বাজার পরিদর্শন করে দেখা যায় প্রায় সব কাঠের আসবাবপত্র তৈরির দোকানেই নৌকা প্রস্তুতের হিরিক। যদিও সারা বছর তারা শুধু কাঠের তৈরি আসবাবপত্র প্রস্তুত করে থাকেন। তবে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির কারনে নৌকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তারা এখন নৌকা তৈরিতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেওহাটা কাঠ বাজার এলাকার নৌকা প্রস্তুতকারী রুপচান সূত্রধর বলেন, ‘‘ নৌকার অনেক চাহিদা। আমরা চাহিদামতো নৌকা তৈরি করতে পারছিনা। ঈদের আগে নতুন নৌকা তৈরির অর্ডার নেয়ার সুযোগ নাই, হাতে অনেকগুলো নৌকার অর্ডার জমা পড়ে আছে।’’ তিনি আরো জানান, গত ১৫ দিন আগে ১০ হাত দৈর্ঘ্যরে যে নৌকা ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতাম এখন সেই নৌকা ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করছি। গত পনের দিনে এই বাজার থেকে কমপক্ষে ৫ শতাধিক নৌকা বিক্রি হয়েছে। নৌকার মূল্য বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, আসলে নৌকার চাহিদা বাড়ছে অপরদিকে নৌকা তৈরিতে ব্যবহৃত কাঠের দামও বেড়েছে।

নৌকা কিনতে আসা সুলতান মিয়া বলেন, তিন দিন আগে একটা নৌকার অর্ডার দিয়া গেছি। সাড়ে ৭ হাজার টাকা দাম। কয়েকদিন আগে কিনলে ৫ হাজার টাকাই কিনতে পারতাম। কিন্তু এখনতো নৌকা ছাড়া উপায় নাই তাই বেশী দামেই কিনতাছি।

এছাড়া উপজেলার এতিহ্যবাহি বরাটি নৌকার হাটসহ বিভিন্ন নৌকা তৈরির বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে নৌকার মূল্য বৃদ্ধির একই চিত্রের খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উপজেলার গ্রামাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন সম্পূর্নরুপে নৌকা নির্ভর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নৌকার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও নৌকা কিনতে পারছেন না অনেকেই।

উল্লেখ্য, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ১০ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় বন্যার পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ। তলিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ন গ্রামীন রাস্তা- ঘাট। গ্রামাঞ্চলে গবাদি পশু ও গোলার ধান নিয়ে বেশী বেকায়দায় পড়েছে গৃহস্ত কৃষকরা। পানিবন্দি হয়ে অনেকেই আশ্রয় নিচ্ছেন ব্রীজের উপর। দেখা দিয়েছে সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার চরম সংকট।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, চাহিদা বাড়ায় হয়তো নৌকার দাম বেড়ে গেছে। তবে যেহেতু এটি এখন যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম তাই কেউ যেন এই সুযোগে অতিমূল্যে নৌকা বিক্রি করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো খোঁজ নেয়া হবে।

মজলুমের কণ্ঠ / ২৭জুলাই /আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles