সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে করটিয়ায় অলিতে গলিতে রমরমা কোচিং বাণিজ্য

সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে করটিয়ায় অলিতে গলিতে রমরমা কোচিং বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় করটিয়ায় অলিতে গলিতে কোচিং সেন্টার চালিয়ে যাচ্ছে অসাধু শিক্ষকরা। সরকারি বিধিমালার তোয়াক্কা না করেই ১৫-২০টি স্থানে কোচিং সেন্টার চালিয়ে যাচ্ছে দেদারছে। যেখানে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণ না করে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের গড়ের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেখানে করোনার ঝুঁকি নিয়ে অভিনব কায়দা কোচিং সেন্টার চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষকরা। প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছে স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করটিয়া বাজারের নাট মন্দির রোডের বাবুল সু ষ্টোরের দ্বিতীয় তলায় রেজাউল কোচিং সেন্টার বাহিরে তালা দিয়ে ভিতরে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর ক্লাশ নেওয়া হয়। করটিয়া চৌধুরী পাড়ায় ব্রাইট এডুকেশন ফ্যামেলিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজের ৮০ জনের উপরে শিক্ষার্থীকে ক্লাশ নেওয়া হয়। করটিয়া বাজারের টিনপট্টিতে শিশ মহলের পশ্চিম পাশে মানষ নামে এক শিক্ষক মাধ্যমিকের শতাধিক শিক্ষার্থীর ক্লাশ নেওয়া হয়। করটিয়া মসজিদ রোডে নুরে আলম লিটুর নেতৃত্বে করটিয়া কোচিং সেন্টারে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর ক্লাশ নেওয়া হয়। ইউনিক কোচিং সেন্টারে আশরাফের নেতৃত্বে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর ক্লাশ নেওয়া হয়। মমিনুল ইসলাম মমিনের নেতৃত্বে দুর্দান্ত টিউটরিয়াল কোচিং এ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাশ নেওয়া হয়ে থাকে। পশ্চিম পালপাড়ায় অজয় সরকার লিটনের নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষার্থীর ক্লাশ নেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও লিমন কোচিং সেন্টার, রবিন কোচিং সেন্টার, কালাম প্রি ক্যাডেটে, পারভেজ, জাহিদ, বাধন, মজনু, প্রদীপ কুমার শীলের নেতৃত্বে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং ক্লাশ নেওয়া হয়ে থাকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেজাউল কোচিং সেন্টারে বাহিরের গেটে তালা দেওয়া। তবে রেজাউলের নেতৃত্বে ভিতরে ক্লাশ নেওয়া হচ্ছে। মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দ্রুত নিচে নেমে আসেন। রেজাউল বলেন, করটিয়া শত শত জায়গায় কোচিং বাণিজ্য চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমি কোচিং চালাচ্ছি। ব্রাইট এডুকেশন ফ্যামিলিতে গিয়ে দেখা যায়, জুয়েল আহমেদ নামের এক শিক্ষক কম্পিউটারে শিক্ষার্থীর জন্য প্রশ্ন তৈরি করছেন। তার টেবিলে পরীক্ষার খাতাও চোখে পড়ে। জুয়েল বলেন, ব্রাইট এডুকেশন ফ্যামেলির পরিচালক আতিকুর রহমান প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজের ৮০ জনের মতো শিক্ষার্থী পড়িয়ে থাকেন। এ বিষয়ের আতিকুর রহমান বলেন, আমি কোন ক্লাশ নেই না। অজয় সরকার লিটনের বাসায় গিয়েও শিক্ষার্থীর পড়ানোর দৃশ্য চোখে পড়ে। অজয় সরকার লিটন বলেন, করটিয়ার বিভিন্ন অলিতে গলিতে চলছে কোচিং বাণিজ্য।

করটিয়ার ওহেদালি, হাসেম, রুপচান ও উজ্জল বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারনে যেখানে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা হচ্ছে না। সেখানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে করটিয়ার অলিতে গলিতে কোচিং সেন্টার চালু রয়েছে। কোচিং ক্লাশ নেওয়া ঠিক হচ্ছে না। প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

(মজলুমের কণ্ঠ / ১৬ অক্টোবর /কে.এ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles