কোটি টাকা আত্মসাদের অভিযোগে ধরেরবাড়ীর শাহজাহান ও হাবিবুরের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোটি টাকা আত্মসাদের অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধরেরবাড়ী মুসলিম হাইস্কুল এন্ড কলেজে পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান আলী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর কলেজ পরিচালনা পরিষদের সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর থানা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি)। মামলায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে এক কোটি চার লাখ ৩০ হাজার টাকা অভিযোগ আনা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী ধরের বাড়ী মুসলিম হাইস্কুল ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুনামের সঙ্গে চলতে থাকে। স্কুলটি ২০১২ সালে কলেজে উন্নতি হয়। সভাপতি শাহজাহান আলী ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে হাবিবুর রহমানকে নিয়োগ প্রদান করেন। এর পর থেকে দুজনের যোগসাজসে বেপরোয়া দুর্নীতি করতে থাকে। ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উত্তর পাশে ৮টি দোকান নির্মাণের নামে প্রতি জনের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেয়। সেখানে ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করে বাকি ৭ লক্ষ টাকা দুজনের আত্মসাৎ করেন। ২০১৫ সালে বিদ্যালয়ের পুকুর হতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে সভাপতির মেয়ের জামাই ইমান আলীর গ্যারেজে ৪ লাখ টাকার মাটি, দুরিয়া বাড়ি ঠান্ডুর বাড়িতে ৩ লাখ টাকার মাটি মতির বাড়িতে ৩ লাখ টাকার মাটি, মজিদ মিয়ার কুপ ভড়াটে ২ লাখ টাকার মাটি ও খুচরা আরো চার লাখ টাকা মাটি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় আরো উল্লেখ্য রয়েছে, ২০১৫ সাল হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার কোচিং এর নামে ১৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু কোচিং না করিয়ে সভাপতি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক দুজনেই সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন। ২০১৪ সাল হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বার্ষিক মিলাদের নামে ৯ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। সেখানে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ দেখিয়ে বাকি ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২০১৫ সালে শিক্ষা সফরের নামে স্কুল ক্যাশ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ১ লাখ টাকা। মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা খরচ বাকি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জাল ভাউচার ব্যবহার করে আত্মসাৎ করে। ২০১৪ সাল হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত ভর্তি ফরম বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। ২০১৮ সালে স্কুলের নামে থাকা পুরাতন মার্কেট ভেঙ্গে নতুন মার্কেট করার নামে পুরাতন ইট ও রড বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা। ২০১৮-১৯ বর্ষে নতুন মার্কেট করে ১৯টি দোকান থেকে ৫৭ লাখ টাকা তোলা হয়। সেখানে ৩০ লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে বাকি ২৭ লাখ টাকা দুজনে আত্মসাৎ করেন। ২০১৪-২০১৯ সাল পর্যন্ত বড় বড় প্রায় ৪০টি মেহগীনি ও আকাশমনি গাছ ১০ লাখ টাকা বিক্রি করে আত্মসাৎ করেন। ধরেরবাড়ী হাইস্কুলের নামে সদর উপজেলার বড় বাশালিয়া মৌজার ২১ শতাংশ জমি ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে আত্মসাৎ করেন। অপর দিকে স্কুলের নামে সদর উপজেলার পাছ বেথইর মৌজার ২১ শতাংশ জমি বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। সর্বশেষ মন্ত্রণায়ের অডিট অফিসারের ঘুষ দেওয়ার নামে শিক্ষকদের নিকট হতে ৪ লাখ টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধরেরবাড়ী এলাকার এক ব্যক্তি বলেন, মো. শাহজাহান মিয়া ধরেরবাড়ীর স্কুল ও কলেজের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার প্রথমেই মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানকে নিয়োগ দেন। এর পর থেকে দুজনের যোগসাজসে একের পর এক দুর্নীতি করতে থাকে। তাদের দুজনের এই দুর্নীতি কি কোনদিন বন্ধ হবে না? নাকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না। সভাপতি ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেন ওই প্রধান শিক্ষক। কয়েকদিন আগেও বিদেশের কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাদের অভিযোগে শাজাহান কারাভোগ করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম বলেন, মামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে আমি আপনাকে জানাতে পারবো।

 

(মজলুমের কণ্ঠ / ৫ নভেম্বর/কে.এ)
সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles