আত্মহত্যাকারীর জন্য দোয়া করা যাবে কি?

মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী :

প্রশ্ন : জামাতে অংশগ্রহণ করার জন্য অনেকে তাড়াহুড়া করে মসজিদের দিকে ছোটে। বিশেষ করে ইমাম যখন রুকুতে থাকেন রাকাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ মসজিদের ভেতরেই দৌড় দেয়। এ বিষয়ে শরিয়ত কী বলে?

উত্তর : নামাজ পড়া ও জামাতে অংশগ্রহণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যেভাবে নামাজের রোকন ও বিধিবিধান শান্ত ও ধীরস্থিরভাবে পালন করা জরুরি তেমনভাবে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে শান্ত ও ধীরস্থিরতার সঙ্গে আসতে হবে।

হাদিস শরিফে দৌড়াদৌড়ি ও তাড়াহুড়া ছেড়ে ধীরস্থিরভাবে মসজিদে যেতে নির্দেশ করা হয়েছে। রাকাত পাওয়ার জন্য মসজিদে দৌড়াদৌড়ি করা এটা শুধু মসজিদের আদবের খেলাফ নয়, বরং নামাজের শান্ত ও ধীরস্থির আমলের পরিপন্থী। তাই আমাদের উচিত এ বদ অভ্যাস পরিহার করা।

তথ্যসূত্র : তাফসিরে রুহুল মাআনি : (সূরা জুমা) খণ্ড-২৮, পৃষ্ঠা-১০২, বুখারি শরিফ : হাদিস নং-৯০৮, মুসলিম শরিফ : হাদিস নং-৬০২।

প্রশ্ন : আত্মহত্যা করা কী? আত্মহত্যাকারীর জানাজা পড়া যাবে কি? তার জন্য ইসালে সাওয়াব করা কি বৈধ?

উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)সহ অধিকাংশ ফিকাহবিদ বলেন, আত্মহত্যাকারীর জানাজা পড়তে হবে।

আর ইসালে সাওয়াব তথা দোয়া-দরুদ বা দান সদকার সওয়াব প্রত্যেক ইমানদারের প্রতি প্রেরণ করা যায়- সে যত বড়ই পাপী হোক না কেন। আত্মহত্যাকারীর জন্য ইস্তেগফার ও ইসালে সাওয়াব করা বৈধ।

তথ্যসূত্র : মুসলিম শরিফ : হাদিস নং-৯৭৮, তিরমিজি শরিফ : হাদিস নং ১০৬১, ফতোয়ায়ে শামি : খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-১০৮।

 

(মজলুমের কণ্ঠ / ১৯ ডিসেম্বর /আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles