চৌধুরী মালঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের ফি আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরাঞ্চলের চৌধুরী মালঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি ও অ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায় করছে শিক্ষকরা। সরকারি নিয়মনীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে জোড় পূর্বক টাকা আদায় করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শিক্ষার্থীদের মানসিক হয়রানিসহ প্রশ্নপত্র দেওয়া হয় না। স্থানীয়দের অভিযোগ সরকারের ভাবমর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষকরা টাকা আদায় করছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। টাকা পরিশোধ করতে অনেক অভিভাবক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। টাকা ফেরত দেওয়ার জোড় দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারনে প্রায় ৯ মাস যাবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করেছে সরকার। তাই শিক্ষার্থীদের ক্লাশ বন্ধ। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে শুরু হয়েছে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। এই পাঠদান শুরুর পর সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠদান শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাসায় বসে শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ (কাজ) করে মূল্যায়নের জন্য সেগুলো শিক্ষকের কাছে জমা দেবে। অ্যাসাইনমেন্টের আওতায় ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন, সৃজনশীল প্রশ্ন, প্রতিবেদন প্রণয়ন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত আছে। অভিভাবক বা তাঁর প্রতিনিধি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রতি সপ্তাহে এক দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করবেন এবং জমা দেবেন। অ্যাসাইনমেন্টে টাকা নেওয়ার কোন নিয়ম না থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোড় পূর্বক টাকা আদায় করছে চৌধুরী মালঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চৌধুরী মালঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে পরীক্ষার খাতা ও অ্যাসাইনমেন্টের খাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছেন রুস্তম আলী নামের এক অভিভাবক। তিনি বলেন, ‘সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলেও শিক্ষকরা জিম্মি করে মাসিক বেতন, পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের ফি আদায় করছেন। আমরা টাকা দিতে অস্বীকার করলে শিক্ষার্থীদের সাথে খুব খারাপ আচরণ করে শিক্ষকরা।’
অপর অভিভাবক মো. আমির হোসেন বলেন, ‘আয় রোজগার না থাকায় পরিবার নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তার পরও ১২শ টাকা দার করে আমার ছেলের পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট ফি ও মাসিক বেতন দিয়েছি। তাহলে সরকার আমাদের জন্য কি করলো। নাকি শিক্ষকরা সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এমন করছে। এক মাস পরে টাকা দিতে চেয়েছিলাম। শিক্ষকরা তা মানেনি। পরে বাধ্য হয়ে টাকা ধার করে স্কুলের টাকা পরিশোধ করেছি। টাকা গুলো ফেরত দিলে আমার জন্য খুব উপকার হতো।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের ফি ছাড়া এডমিট কার্ড দেয় না, আর এডমিট কার্ড ছাড়া পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্ন পত্র দেয় না। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় সুমন ও উসমান স্যার খুব খারাপ আচরণ করেছে। টাকা নেওয়ার পর কোন প্রকার রশিদ দেওয়া হয় না। তবে এডমিট কার্ড দেওয়া হয়।’
৯ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার ফি ২০০, অ্যাসাইনমেন্টের ফি ২৫০ ও মাসিক বেতনসহ মোট ১২ শ টাকা জমা দিয়েছি। অন্যান্য স্কুলে পরীক্ষার ফি ও অ্যাসাইনমেন্টের টাকা না নিলেও চৌধুরী মালঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয় চরাঞ্চলে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে নজরদারি না থাকায় শিক্ষকরা মাঝে মাঝেই টাকা আদায় করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাদের সাথে খুবই খারাপ আচরন করেন। তাই টাকা গুলো ফেরতের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
চৌধুরী মালঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুধু মাসিক বেতন নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের ফি নেওয়া হচ্ছে কিনা সেটি আমার জানা নাই। এছাড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কোন খারাপ আচরণ করা হয় না।’
সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, ‘মাসিক বেতন নেওয়ার নিয়ম আছে। পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের ফি নেওয়ার কোন নিয়ম নেই।,
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

মজলুমের কন্ঠ/১ ডিসেম্বর

(মেহেদী)

 

 

Related Articles