টাঙ্গাইলে সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল

রেজাউল করিম:

টাঙ্গাইলে গত চারদিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত সাত জনের ৬ জনের বাড়িই টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলাতে। এ যেন সড়কে টানা মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিন মৃত্যু মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী বাসে ধাক্কা, মূখোমুখি সংঘর্ষসহ সড়ক দুর্ঘটনায় এদের প্রাণহানী ঘটে। বেশ কিছুদিন সড়কে মৃত্যুর সংখ্যার কম থাকলেও হঠাৎ মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। ঘণ কোয়াশা, বেপরোয়া গাড়ির টান, ট্রাফিক আইন অমান্য করাকে দুর্ঘটনার প্রধান কারন মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৩ জনের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে ট্রাক-পিক-আপের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হচ্ছে ট্রাক চালক রাজশাহীর রাজশাহী গোদাগাড়ি এলাকার বাবুল মিয়া (৩২), সোবাহান (৩৪), নজরুল ইসলাম (৩৫), রিয়াদ মিয়া (৩০)। অপর দুজনের বাড়িও রাজশাহী বলে জানা গেছে। টাঙ্গাইলের ঘারিন্দায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম জানান, ঢাকাগামী সবজি ভর্তি ট্রাক ও উত্তরবঙ্গমুখী প্রেসের মেশিন বহনকারী পিকআপ ঘারিন্দা এলাকায় পৌছালে ঘন কুয়াশার কারনে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘনটাস্থলেই চার জন নিহত হন। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরো একজন মারা যান।

এদিকে সোমবার (৭ ডিসেম্বর) জেলার কালিহাতীতে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সুমন নামের এক অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। ওইদিন সকালে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার সল্লা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অটোরিকশাচালক উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আইয়ুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) জেলার নাগরপুরে ট্রাক্টর ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে চালক নিহত হয়েছেন। ওইদিন সকালে টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক সড়কের নাগরপুর ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অটোরিকশা চালক সেন্টু মিয়া (৩৫) উপজেলার চাষাভাদ্রা গ্রামের মজিদ মিয়ার ছেলে। নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) জেলার মির্জাপুরে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী একটি বাসের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় ছয় জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। ওইদিন সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার কুরণী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মির্জাপুর গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারীও ছিল। নিহতদের অধিকাংশই রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

এদিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত সাত জনের ৬ জনের বাড়িই টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চাষাভাদ্রা গ্রামে। নিহত গোবিন্দ বাদ্যকর (৩২), তার মেয়ে রাঁধে বাদ্যকর (৪), স্ত্রী ববিতা বাদ্যকর (২৫), বাবা হরে কৃষ্ণ (৫৫), চাচি খুশি বালা (৫০) ও চাচাতো ভাই রামপ্রসাদ বাদ্যকর (৩২)। নিহতরা একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

টানা গত চারদিনের সড়কে মৃত্যুর মিছিলে এলাকার সাধারন মানুষের মধ্যে ভ্রমণ আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসী নিরাপদ সরকের দাবি করছে।

(মজলুমের কণ্ঠ / ৮ ডিসেম্বর /আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles