দেলদুয়ারের ফাজিলহাটিতে নামাজীদের সাইকেল পুরস্কার

মোহাম্মদ হেলালুজ্জামান:

যুবকরাই পারে ভালো কিছু করতে, তরুণরাই সুন্দরের ইতিহাস গড়ে, যুগে যুগে এর বহু প্রমান আছে এই পৃথিবীতে। টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলাধীন ফাজিলহাটি ইউনিয়নের গাছপাড়া গ্রামের কিছু তরুণেরা সেই প্রমাণ রেখে দিলো। বর্তমান সমাজে তরুণেরা যেখানে নানামুখী বিপদগামী বা ধর্মের ক্ষেত্রে অনেকটাই উদাসীন হয়ে পড়ছে সেই ক্লান্তিলগ্নে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করলো এই গ্রামের কিছু সাদামনের শিক্ষিত ও কর্মজীবী যুবকেরা। আল্লাহ তাআলার দরবারে যুবক বয়সের ইবাদত-বন্দেগির মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ যৌবনের টগবগে সময়ে একজন তরুণের মাঝে এক ধরনের কামনা, বাসনা, উত্তেজনা আবার চরম হতাশা কাজ করে। আর তাতে সে ইবাদত-বন্দেগি তথা আল্লাহর ভয় থেকে গাফেল হয়ে যায়। যারা বয়ঃসন্ধিক্ষণে যৌবনের উম্মাদনা থেকে নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তারাই সফলকাম। এ কারণেই যৌবনে নিজেকে নির্মল, সৎ ও চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলতে কুরআন ও হাদিসে জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে।

সেই চিন্তা থেকেই যে যুবকেরা স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের মসজিদ ও নামাজমুখী করতে এগিয়ে আসে তাদের মধ্যে অন্যতম ফয়সাল আহমেদ, রাকিব মিয়া, জুলহাস মিয়া, সজিবুল রহমান, সাজ্জাদুর রহমানসহ আরো অনেকে। ফয়সালদের এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সকল শ্রেণী পেশার মানুষেরা এবং সহায়তা করেছে গ্রামের ও এলাকার সহৃদয়বান ও সামর্থবান সমাজের অনেক লোকেরাই। সত্যিই ফাজিলহাটি ইউনিয়ন তথা দেলদুয়ার উপজেলাতে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনের সূচনা করলো এই আয়োজক তরুণ যুবকেরা। এরাই পারবে আমাদের সমাজকে আলোকিত করতে, দেশকে গড়তে ও সুন্দর করে সাজাতে। স্কুল পড়ুয়া নামাজী ছেলেদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ও পরিচালনা করে গাছপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদ কমিটি।

মসজিদে ঘোষণা করে দেন, যে ছেলেরা মসজিদের ইমাম হজরত মাওলানা এখলাস উদ্দিন সাহেব এর পিছনে একাধারে ৪০ দিন জামাতের সহিত নামাজ আদায় করবে তাদের একটি করে নতুন সাইকেল উপহার দেয়া হবে। এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা দারুন সাড়া ফেলে সবার মাঝে। এই মহৎ উদ্যোগকে সাফল্যমন্ডিত করতে এগিয়ে আসেন এই মসজিদের ইমাম হজরত মাওলানা এখলাস উদ্দিন সাহেব ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি। ইমাম সাহেব শুরু করে দেন কর্মসূচি। প্রতিদিন কোরআন এবং ইসলামিক বিভিন্ন মাস্লা মাসায়েল সম্পর্কেকে এশার নামাজের পরে শিক্ষা দিতেন।

স্কুল পড়ুয়া ২৩ জন অংশগ্রহন করে তার মধ্যে ৮ জন ৪০ দিন জামাতের সহিত নামাজ আদায় করেছে। ২৩ নভেম্বর হতে শুরু করে নির্ধারিত ৪০ দিন শেষ হয়েছে ১ ডিসেম্বর ২০২০। আর সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল শুক্রবার ১৫ জানুয়ারি ২০২১জুম্মার নামাজ শেষে পুরস্কার ঘোষণা ও বিতরণ করা হয়। তদমধ্যে প্রথম স্থান মোঃ রাতুল মিয়া, পিতাঃ মোঃ শাহজাহান মিয়া, দ্বিতীয় স্থান মোঃ নাসিম মিয়া, পিতাঃ মোঃ আব্দুর রহমান, তৃতীয় স্থান মোঃ তাইম মিয়া, পিতাঃ মোঃ মালেক মিয়া, চতুর্থ স্থান মোঃ ইমন মিয়া, পিতাঃ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, পঞ্চম স্থান মোঃ নাজমুল মিয়া, পিতাঃ মোঃ নুরুল ইসলাম, ষষ্ঠ স্থান মোঃ নিরব মিয়া, পিতাঃ মোঃ নুরুল ইসলাম, সপ্তম স্থান মোঃ সিফাত মিয়া, পিতাঃ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, অষ্টম স্থান অধিকার করেছে মোঃ সজীব মিয়া, পিতাঃ মোঃ সোহরাব মিয়া।

এছাড়াও এই বিজয়ী ৮ জনকে সাইকেল এর সাথে বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংক নাল্লাপাড়ার শাখার সৌজন্যে ইসলামি বই উপহার দেয়া হয়েছে। অংশগ্রহণ করা বাকি ১৫ জনকে উপহার স্বরূপ দেয়া হয়েছে স্কুল ব্যাগ, জ্যামিতি বক্স, কলম ও টুপি।

(মজলুমের কণ্ঠ / ১৬ জানুয়ারি / আর.কে.)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles