টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে অনিয়মের ছবি তোলায় সাংবাদিক অবরুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কাউন্টারে দ্বিগুণ দামে টিকেট বিক্রির ছবি তোলায় এক সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে রেখেছে হাসপাতালের দুই কর্মচারী। পরে জেলার আরো কয়েকজন সাংবাদিক হাসপাতালে উপস্থিত হলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। অবরুদ্ধ সাংবাদিক অভিজিৎ ঘোষ অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি।

জানা গেছে, ঢাকার একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত সজীব ও হৃদয় মণ্ডল নামে দুই যুবক করোনা টেস্ট করানোর জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আউটডোর কাউন্টারে টিকেট কাটতে যান। কাউন্টারের লোকজন তাদের কাছে এক হাজার টাকা চায়। টাকা না দিলে সেখান থেকে বের হয়ে যেতেও বলা হয়। টাকা নেয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিক ছড়িয়ে পড়ে। এমন খবর পেয়ে সাংবাদিক অভিজিৎ ঘোষ হাসপাতালে গিয়ে কাউন্টারের লোকজনের কাছে টাকা নেয়ার বিষয়টি জানতে চান এবং ছবি তোলেন। পরে কাউন্টারের দুই কর্মচারী তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে জেলার অন্য সাংবাদিকরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

করোনা টেস্ট করাতে আসা হৃদয় মন্ডল বলেন, করোনার টেস্ট করানোর জন্য গেলে টিকেট কাউন্টারের কর্মচারী সোহাগ আমার কাছে এক হাজার টাকা চায়। আমি টাকা দেইনি তাই টেস্টও করাতে পারিনি। আমার মতো আরো তিনজন করোনা টেস্ট করার জন্য এক হাজার টাকা দিয়ে টিকেট কেটেছে।

হাসপাতালে আসা অনেকেই জানান, আউটডোরে পাঁচ টাকার টিকেট রাখা হচ্ছে ১০ টাকা। বাকি টাকা ফেরত চাইলে কাউন্টার থেকে জানানো হয় পাঁচ টাকা খুচরা নেই। এছাড়া  কাউন্টারের কর্মচারীরা রোগীর স্বজনদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে।

সাংবাদিক অভিজিৎ ঘোষ বলেন, করোনার টেস্টের টিকেট কাটতে এক হাজার টাকা নিচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়ে কাউন্টারে আসি ও ছবি তোলা শেষে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিতে যাই। ফেরার সময় তারা আমাকে সেখান থেকে যেতে নিষেধ করে। আরএমও’র নির্দেশে হাসপাতালের কর্মচারী সোহাগ আমাকে টিকেট কাউন্টারের বাইরে আটকে রাখে ও দরজার সামনে হাসপাতালের কয়েকজন লোককে দাঁড় করিয়ে রাখে।

আউটডোর টিকেট কাউন্টারের ইনচার্জ রুবেল জানান, হাসপাতালে অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা নিষেধ। ওই সাংবাদিক কাউন্টারে এসে ছবি তোলা ও ভিডিও করছিল। পরে তাকে আরএমও’র রুমে যেতে বলা হয়েছিল।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিকুল ইসলাম সজিব বলেন, আমি বিষয়টি জানার পরই ওই সাংবাদিককে আমার রুমে নিয়ে যেতে বলি কিন্তু সে আসেনি। তাকে টানাহেঁচড়া কিংবা অবরুদ্ধ করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, করোনা টেস্টের টিকেটের জন্য বাড়তি টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। কেউ বাড়তি টাকা নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

(মজলুমের কণ্ঠ / ২৩ ফেব্রুয়ারি / কে.এ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles