টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে পিঠা উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শীতকাল প্রায় শেষ। শীতের শেষ মুহুর্তে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আয়োজন করা হয়েছে পিঠা উৎসব। প্রেসক্লাবে প্রবেশ করেই উৎসবের আমেজটা টের পাওয়া গেল। সকালে ঠা-া হিম বাতাসে উৎসবের আমেজটা নতুন মাত্রা পেল। পিঠা উৎসবে অংশ নিতে নানা পিঠার সমাহার নিয়ে হাজির ছিল প্রতিযোগিরা। উৎসবে প্রবেশ মুখেই নানা পিঠার গন্ধে জিভে জল আসার জোগাড়। স্টলগুলো ঘুরে দেখা গেল বাঙালি ঐতিহ্যের নানা রকম পিঠা। পুুলি, ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, মাংস পিঠা, নকশা, পাকন, শামুক, ডিম প্রভৃতি পিঠার সমাহার। শীতের মজাদার পিঠার মধ্যে রয়েছে ভাপা, পাটিসাপটা, পাকন, পুলি, মিঠা, ক্ষীরপুলি, নারিকেল পুলি, আনারকলি, দুধসাগর, সন্দেশ এবং চিতই প্রভৃতি। শুক্রবার এই পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি। টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর। এতে আলোচনায় অংশ নেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, সেলস্ এন্ড রিভিউ জোনের মাসুদ রানা। পিঠা উৎসবে ২০ জন প্রতিযোগি অংশ নিয়েছে।

উৎসবে আসা স্কুল শিক্ষার্থী সোহাইল বেরাজ বলেন, ‘পিঠা উৎসব আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। শীতকাল এলেই আমাদের বাড়িতে মা পিঠা বানায়। সকলের সাথে পিঠা খেতে বেশ ভাল লাগে।’

মেহেদী হাসান বলেন, ‘শীতকাল আমাদের অনেকের কাছেই প্রিয়। বাঙালি ঐতিহ্যগত কারণে এ ঋতুর সঙ্গে পিঠার অন্যরকম মিল রয়েছে। শীতকে আমরা বরণ করে নিই এই পিঠা উৎসবের মাধ্যমে। পিঠা উৎসবের মাধ্যমে প্রশাসনিক, রাজনীতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মিলনমেলা তৈরি হয়েছে।’

কানস পিঠা উৎসবের শান্তা ও স্বাদের রান্না ঘরের তাহমিনা তৃপ্তি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। ঘরে বসে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা অলস সময় পার করেছে। আবার অনেকেই সময়কে কাজে লাগিয়ে বাহারি রকমের পিঠা তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করছে। পিঠা উৎসবে অংশ নিতে পেরে খুব ভালই লাগছে।’

আয়োজক টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ বলেন, ‘টাঙ্গাইলের শাড়ী যেরকম দেশব্যাপি পরিচিতি লাভ করেছে, ঠিক সেইভাবে টাঙ্গাইলের পিঠা যাতে দেশব্যাপি পরিচিত লাভ করে সেই লক্ষ্যেই প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বড় আকারে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হবে।’

জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি বলেন, ‘অসম্ভব চমৎকার চিরায়ত বাঙ্গালীর যে ভালো লাগার একটা অনুভুতি টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পিঠা উৎসবে এসে আমার খুব ভাল লাগছে। বহিঃবিশ্বে আমাদের দেশের পিঠাকে কিভাবে খাদ্য শিল্প হিসেবে আমরা তুলে ধরতে পারি এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি সরকারের পক্ষ থেকে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উৎসাহ ও সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়াও উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবো।’

(মজলুমের কণ্ঠ / ১২ ফেব্রুয়ারি / আর.কে.)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles