সুন্দরবনে আগুন

অনলাইন ডেস্ক:

সুন্দরবনে আগুন লেগেছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারানি টহল ফাঁড়ি এলাকার ২৪ নাম্বার কম্পার্টমেন্টে এই আগুনের ঘটনা ঘটে। সুন্দরবনে লাগা আগুন কতটুকু এলাকায় ছড়িয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেনি বনবিভাগ। তবে স্থানীয়রা বলছে প্রায় দুই একর এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।

আগুন নেভাতে স্থানীয় লোকজন ও বনবিভাগ কাজ করছে। আগুনের বিস্তৃতি যাতে না বাড়তে পারে সেজন্য ফায়ার লাইন (আগুনের অংশের মাটি আলাদা করা) কাটার কাজ করছে বনবিভাগ ও স্থানীয়রা। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট এখনো সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের ফেলে দেয়া বিড়ি সিগারেট আগুন থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বনবিভাগ।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর এলাকার চার শতক বনভূমি পুড়ে যায়।

সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা সদর থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে মরা ভোলা নদী। এই নদী পার হয়ে সুন্দরবন। প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনের দাসের ভারানি টহল ফাঁড়ি। এই এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ রাজাপুর, মাঝেরচর ও রসুলপুর গ্রামের শতাধিক গ্রামবাসী আগুন নেভানোর কাজে যোগ দিয়েছে।

আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়া দক্ষিণ রাজাপুর, মাঝেরচর ও রসুলপুর গ্রামের আবজাল চাপরাশি, রেজাউল ও সুমন বলেন, সুন্দরবনের দাসের ভারানি এলাকায় আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা শতাধিক গ্রামবাসী সেখানে ছুটে এসেছি। আমরা বাড়ি থেকে কলসি, বালতি, জগ ও হাড়ি নিয়ে পাশের ভোলা নদী থেকে পানি নিয়ে একদল গ্রামবাসী আগুন লাগার স্থানে চিটাচ্ছি। অন্য একটি দল আগুন যাতে সুন্দরবনের সব দিয়ে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ফায়ার লাইন (আগুনের অংশের মাটি আলাদা করা) কাটার কাজ করছি।

তারা বলেন, মরা ভোলা নদী থেকে আগুন লাগার স্থানের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। দূরে হওয়ায় পানি পেতে কষ্ট হচ্ছে। এখানে অন্য কোনো পানির উৎস নেই। এই কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রায় দুই একর এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বলে তাদের ধারনা।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, সোমবার সকাল ১১টার দিকে ফাঁড়ির অদূরে ধোঁয়ার কুন্ডলি দেখতে পায় বনকর্মীরা। তারা সেখানে যেয়ে দেখেন কোথাও কোথাও ধোঁয়ার কুন্ডলি আবার কোথাও আগুন জ্বলছে। এই বনে বলা, গেওয়া ও লতাগুল্ম জাতীয় গাছপালা রয়েছে।

তিনি বলেন, আগুনের খবর স্থানীয়দের জানানো হলে তারা আমাদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দিয়েছেন। আগুনের বিস্তৃতি যাতে সব এলাকায় ছড়িয়ে না পড়তে পারে সেজন্য স্থানীয়দের নিয়ে একদিকে পানি ছিটানো হচ্ছে, অন্যদিকে ফায়ার লাইন কাটার কাজ চলছে। দমকল বাহিনীকে খবর দেয়া হয়েছে। তবে তারা এখনো পৌঁছতে পারেনি।

বন কর্মকর্তা বলেন, পানির যোগান কম থাকায় আগুন নেভানোর কাজে দারুণ অসুবিধা হচ্ছে। জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের ফেলে দেয়া বিড়ি সিগারেটের আগুন থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারন করছি। তবে কতটুকু এলাকায় আগুন ছড়িয়ে, কী ধরনের গাছপালা পুড়ছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। পরে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে জানানো হবে।

(মজলুমের কণ্ঠ / ৩ মে / আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles