ভুল ভুলে ভালোয় নজর সাকিবের

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

তাঁর খেলার মাঠের জীবন এখন এক সুরক্ষা বলয় থেকে আরেকটিতে গিয়ে ঢোকার। নিউজিল্যান্ড সিরিজের শেষ ম্যাচ না খেলায় একটু আগেই বলয় থেকে বের হতে পেরেছিলেন। তবে গত রাতে আইপিএল খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পথে রওনা হওয়ার আগে মাত্র তিন দিনের মুক্ত জীবনও অফুরন্ত ব্যস্ততায় কেটে গেছে সাকিব আল হাসানের। যে ব্যস্ততা ব্যবসায়ী সাকিবের, পণ্যদূত সাকিবেরও। ব্যবসার নানা দিগন্তে ডানা মেলতে থাকা এই অলরাউন্ডারকে আগের দিন দেখা গেছে একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানির উপদেষ্টা পরিষদে তাঁর অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অনুষ্ঠানে। পরদিন তিনিই আবার আরেক স্থানীয় হোটেলে ডিবিএল সিরামিকসের পণ্যদূত হয়ে হাজির।

বাজার চাহিদাও এমন তুঙ্গে যে এন্ডোর্সমেন্টের দিক থেকে অন্য তারকাদের সঙ্গে ব্যবধানও ক্রমশ বাড়িয়েই চলেছেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে লাসিথ মালিঙ্গাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বোলার। এ ক্ষেত্রে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তামিম ইকবাল যেখানে ১০টি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে দেখা দেন, সেখানে সাকিবের সংখ্যাটি গতকাল ‘২০’ ছুঁয়ে ফেলল। সুরক্ষা বলয়ে টানা খেলার ঠাসা সূচির মধ্যে থেকেও ব্যবসা আর দূতিয়ালির জগতে সরব জীবন তাই কঠিনই হওয়ার কথা। সাকিব অবশ্য জানালেন, এই জীবনও সহজ করে নেওয়ার উপায় বের করে ফেলেছেন তিনি, ‘ম্যানেজ করতে হয়, একজন পেশাদার খেলোয়াড়কে এসব ম্যানেজ করেই এখন চলতে হয়। তো সেই জিনিসটাই সেরা উপায়ে করার চেষ্টা করছি।’

তাঁর চেষ্টা থাকে মাঠেও নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার। তবে বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের কেউই অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সিরিজে মিরপুরের ধীরগতির অসমান বাউন্সের উইকেটে সুবিধা করতে পারেননি। বোলারদের সৌজন্যে টানা দুটো সিরিজ জিতলেও ব্যাটিংয়ের দিক থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা প্রস্তুতি হলো কি না, সে প্রশ্ন রয়েই গেছে। সাকিব নিজেও আগের দিন সে প্রশ্ন উসকে দেওয়ার মতো এমন মন্তব্য করেছেন, ‘এ রকম উইকেটে কেউ ১০-১৫টি ম্যাচ খেললে তাঁর ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যেতে পারে।’ যদিও এই ব্যাপারটি এক পাশে সরিয়ে রেখে তিনি জয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন সর্বাধিক।

জয়ের অভ্যাস গড়ে উঠলেও মিরপুরের উইকেটে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ আবার ‘ফলস সেন্স অব কনফিডেন্স’ নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে না তো। টাইলসের পণ্যদূত হওয়ার অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের এই জিজ্ঞাসার মুখেও পড়তে হলো সাকিবকে। জবাবে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর অনুরোধই যেন জানাতে চাইলেন তিনি, ‘দেখুন, আপনি যদি ভুল ধরতে চান, যেকোনো জিনিসেরই ভুল ধরা সম্ভব। সুতরাং ভুলটা একটু কম দেখে ভালোর দিকে যদি তাকান, তাহলে অনেক ভালো কিছু দেখতে পাবেন। আপনার দেখার দৃষ্টিটা আসলে কেমন, সেটি বুঝতে হবে।’ সাকিব বরং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে দেখা সম্মিলিত পারফরম্যান্সেই উদ্বুদ্ধ হলেন বেশি, ‘আমার কাছে মনে হয়, সব ক্রিকেটারই কমবেশি পারফরম করছে এবং আমরা একটি দল হিসেবে খেলতে পারছি। এটিই জেতার বড় কারণ।’

প্রশ্ন থাকলেও টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ বড় এক লাফ দিয়েছে এই দুটি সিরিজ জয় দিয়েই। ১০ নম্বরে থাকা দল এক মাসের মধ্যেই উঠে এসেছে ৬ নম্বরে। বিশ্বকাপে ঠিক এই জায়গা থেকেই আবার শুরু করবে বাংলাদেশ। ওমানে অনুষ্ঠেয় প্রথম পর্ব শুরুর আগে সেখানে একটু আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে চলে যাবে বাংলাদেশ দল। সাকিব আর মুস্তাফিজুর রহমানের প্রস্তুতি অবশ্য অন্যদের তুলনায় জমাটই হওয়ার কথা, যেহেতু তাঁরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইপিএল খেলবেন। ওই আসরে খেলার জন্য দেশ ছাড়ার আগে গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানের সঙ্গী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও দেখা করতে গিয়েছিলেন, যা ছিল মাত্র তিন দিনের অবসরে প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকার শেষ ধাপ।

 

(মজলুমের কণ্ঠ / ১৩ সেপ্টেম্বর/ আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles