মধুপুরে আদিবাসী গণমাধ্যমকর্মীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টাঙ্গাইলের মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে আদিবাসী গণমাধ্যমকর্মী প্রিন্স এডুওয়াড মাংসাংকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতন করে উল্টো গণমাধ্যমকর্মী প্রিন্স এডুওয়াড মাংসাংকের বিরুদ্ধেও আবার মামলা করা হয়েছে। মামলা প্রত্যাহার, নির্যাতনের প্রতিবাদ ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের অপসারণ দাবি করে মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে আদিবাসী বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রিন্স এডুওয়াড মাংসাং পাক্ষিক প্রাইভেট ডিটেকটিভ, দৈনিক নবতান ও স্বাধীন বাংলা নিউজ টিভিতে কাজ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স এডুওয়াড মাংসাং লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৮ আগস্ট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের বাড়ির পাশে হাওলা বিলের পানিতে দুই শিশুর লাশ পাওয়া গেছে- এমন খবরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আমি একাধিক সংবাদকর্মীকে বিষয়টি অবগত করি। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো মাত্রই চেয়ারম্যান আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এসময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল হোসেন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীর বর্মন দৌঁড়ে এসে লাথি ও কিলঘুষি মারতে থাকে। এমতাবস্থায় চেয়ারম্যান নিজেই লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাটিতে ফেলে বেধরক মারপিট করে। এসময় ক্যামেরা, মোবাইল, ক্যামেরা স্ট্যান্ড, মাইক্রোফোন, টাকা, সাংবাদিকতার আইডি কার্ড, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। আমার মোটরসাইকেলটিও ভাংচুর করা হয়। এক পর্যায়ে আমাকে গাছে সঙ্গে বেঁধে চেয়ারম্যানের নির্দেশে আয়নাল, জয়নাল, সিদ্দিক, বাচ্চু মিয়া, সোহেলসহ ১৫-১৬জন মিলে আমাকে নির্যাতন করে। ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিয়ে সেখান থেকে আমাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এরপর আমাকেসহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আমি বর্তমানে জামিনে রয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় মধুপুর থানায় মামলা না নেওয়ায় আমি গত ৩১ আগস্ট চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করি। এ মামলায় আরও তিনজন ইউপি সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করতে আদালতের বিচারক সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। মাননীয় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের নিকট এই সন্ত্রাসী দুর্নীতিবাজ আব্দুর রহিম চেয়ারম্যানের অপসারণ ও ইউপি সদস্যসহ জড়িত সকলের শাস্তি ও মানহানীর জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- মধুপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সানি মারাক, বাগাছাস মধুপুর উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি থিওফিল মাজি, সাবেক সভাপতি বিজয় হাজং, গাসু মধুপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিমালয় চিরান, বাঙ্গালী আদিবাসী ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুল ইসলাম, আদিবাসী ইউনিয়ন মধুপুর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিলটন দফো প্রমুখ।

 

(মজলুমের কণ্ঠ / ৭ সেপ্টেম্বর/ আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles