রানা প্লাজা ধস : কূল কিনারা হয়নি হত্যা ও ইমারত নির্মাণ মামলার

ম.কণ্ঠ ডেস্ক : সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের দুই মামলায় কোন কূল কিনারা হয়নি। এজন্য আইনের জটিলতাকেই দায়ী করছেন আইনজীবীরা। এ দুই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে প্রায় ২ বছর আগে। এছাড়াও আদালতে রানার পরিবারসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে ঝুলে আছে আরোও ৩টি মামলা। তবে আগামী বছরের মধ্যে মামলাগুলো যথেষ্ট অগ্রগতির আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষ।

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঐ ঘটনায় সেদিন প্রাণ হারায় ১ হাজার ১৩৬জন। আহত ও পঙ্গু হয় প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। এরপর ভবন মালিক সোহেল রানা, তার পরিবারের সদস্যসহ বেশকিছু আসামির বিরুদ্ধে মোট মামলা দায়ের করা হয় ৭টি।

এরমধ্যে সাভার থানায় সোহেল রানাসহ ৪১ জনকে আসামি করে প্রথমেই একটি হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ। ২০১৫ সালের ২৬শে এপ্রিল এ মামলায় ৪১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে দেয়া হয় অভিযোগপত্র।

পরে মামলার দুই আসামি মারা গেলে বাকিদের বিরুদ্ধে পরের বছর ১৮ই জুলাই অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত একজনেরও সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি।

ইমারত নির্মাণ আইন না মানার অপরাধে আরো একটি মামলা করে রাজউক। ২০১৫ সালের ২৬শে এপ্রিল রানাসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দেয় সিআইডি।

পরের বছর ১৬ই জুন সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হলেও, এ মামলাটিতেও কোন সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পারেনি আদালত।

এ দুই মামলার অধিকাংশ আসামিই উচ্চ আদালতে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করায় মামলাগুলোর কার্যক্রম থেমে আছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খোন্দকার আব্দুল মান্নান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যে প্রসিকিউশন টিম আছে। আমরা অত্যন্ত তৎপর এই মামলাটি নিয়ে।’

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদও দ্রুত মামলাগুলো নিষ্পত্তির আশা করছেন।

তিনি বলেন, ‘যদি মামলাটা শুরু হয়। তাহলে নিষ্পত্তি হলে যা হবার হবে। রাষ্ট্রপক্ষ হয়তো এই মামলাটা ইচ্ছাকৃতভাবে করছে না। যদি রানা খালাস হয়ে যায়।’

হত্যা ও ইমারত নির্মাণের দুই মামলা ছাড়াও আসামি রানাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ভবন নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ই জুন একটি মামলা করে দুদক। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

এছাড়াও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে গত ৩১শে ডিসেম্বর আরো একটি মামলা করে দুদক। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। একই অপরাধে রানার বাবা আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে দুদকের একটি মামলা রয়েছে, যা ঢাকার ৭ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন।

এতো মামলার ভিড়ে একটুখানি আশার কথা হলো এখন পর্যন্ত দুদকের দুই মামলায় সোহেল রানা ও তার মা’কে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার দু’টি বিশেষ জজ আদালত। আর হতাশার কথা হলো রানা ছাড়া সব আসামিই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

Related Articles