মির্জাপুরে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু নুরনবীর শেষ আশ্রয় কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুড়িয়ে পাওয়ার ২৭ দিন অতিবাহিত হলেও সিদ্ধান্ত হয়নি নবজাতক নুরনবী কার কাছে বড় হবে। কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গত এক সপ্তাহ ধরে মির্জাপুর থানা পুলিশের ওসি একেএম মিজানুল হক বাবা ও তার স্ত্রী রেদোয়ানা হক মায়ের স্নেহ দিয়ে নবজাতকটিকে লালন-পালন করছেন।

তাদের সাত বছরের একমাত্র পুত্রসন্তান মাহিনুল হক নুর ও শিশু নুরকে ছোট ভাইয়ের স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা শিশুটির কে হবেন বৈধ অভিভাবক তা নির্ধারণ করবেন আদালত।

গত ৪ এপ্রিল মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের বন্দে কাওয়ালজানী গ্রামে সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকটিকে একটি পলিথিনের ব্যাগে ভরে রাস্তার পাশে কে বা কারা ফেলে যায়।

ওই গ্রামের শিক্ষক হুমায়ুন কবির ও সাইফুল ইসলাম একটি কুকুরকে পলিথিনটি টানাহেঁচড়া করতে দেখে এগিয়ে গিয়ে পলিথিনের ভেতর থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ নবজাতকটিকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই খবর প্রচার হলে অনেক দম্পতি নবজাতকটিকে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হবে বলে মির্জাপুর থানা কর্তৃপক্ষ সবাইকে জানিয়ে দেয়। এলাকাবাসী শিশুটির নাম রাখে নুরনবী।

আদালতের নির্দেশ না পাওয়ায় মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম মিজানুল হক নুরনবীকে নিজের বাসায় নিয়ে যান এবং নিজের সন্তানের স্নেহে লালন-পালন করছেন।

শনিবার ওসি মিজানুল হকের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ওসির স্ত্রী রেদোয়ানা হক শিশুটিকে নিয়ে খেলা করছেন। তিনি বলেন, নুরনবী যেভাবে আমাদের কাছে আপন হয়েছে ওকে অন্যের হাতে তুলে দিতে কষ্ট হবে। তবে আদালত যাকে দত্তক হিসেবে দেবেন তার কাছেই তাকে তুলে দেয়া হবে।

মির্জাপুর থানা পুলিশের ওসি একেএম মিজানুল হক বলেন, আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। আদালতের নির্দেশ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles