খেলাধুলার অনুপযোগী ভূঞাপুরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম

অভিজিৎ ঘোষ :

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শেষ না হতেই নির্মিত প্যাভিলিয়ন ভবনটি বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া প্যাভিলিয়ন ভবনের বারান্দা হেলে পড়ে লোহার গ্রিল বাঁকা হয়ে গেছে। খসে খসে পড়ছে প্লাস্টার। এমনকি মাঠের চারিদিকে বসানো চেয়ারগুলোর অধিকাংশ ভেঙে পড়েছে। বৃষ্টি পানিতে মাঠের মাটিও ধ্বসে গেছে। ফলে সেখানে কোন ধরনের খেলাধুলা করতে পারছে না স্থানীয়রা। সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।


জানা গেছে, দেশের ১৩১টি উপজেলায় খেলাধুলার মান-উন্নয়নের জন্য সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ট পূত্র শেখ রাসেলের নামে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু করে। এরমধ্যে টাঙ্গাইলের ৭টি উপজেলায় এই মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জেলার ভূঞাপুর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে নি¤œমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্টেডিয়ামটি নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই এটির একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে। ৪১ লাখ টাকা ব্যয় নির্মিত শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামটি নির্মাণের কাজ করেছে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আকতার এন্টারপ্রাইজ এবং ফোর সাইট কোম্পানী নামের দুইটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানী। এতে একতলার প্যাভিলিয়ন ভবন, পাবলিক টয়লেট ভবন, আধুনিক ফুটবল গোলপোস্ট, মাঠে মাটি ভরাট ও মাঠের চারিদিকে দর্শকদের বসার জন্য ইট-সিমেন্ট দিয়ে বেঞ্চ তৈরি।

এদিকে ভূঞাপুর পৌরসভার শিয়ালকোল হাট সংলগ্ন যেখানে স্টেডিয়াম নির্মিত হয়েছে পূর্বে সেখানে হেলিকপ্টার উঠা-নামার জন্য হেলিপ্যাড ছিল। ফলে সেই মাঠের জায়গাটা ছিল উচু। সেখানে প্রায় ৭০ হাজার ইট দিয়ে হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছিল।
স্থানীয় যুবক আশিক, অনিক, শাওনসহ অনেকেই বলেন, মাঠটি বর্তমানে পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে রয়েছে। সেখানে খেলাধুলার কোন পরিবেশ নেই। স্থানীয় যুবকরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অনেকেই নেশার জগতে প্রবেশ করছে।

শিয়ালকোল এলাকার দিপালী স্পোটিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আক্তারুজ্জামান খান (দিপালী) বলেন, শিয়ালকোলের হেলিপ্যাড মাঠে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে যে ইট ছিল সেগুলো ঠিকাদার বিক্রি করেছে। এছাড়া মাঠে মাটি ভরাটতো দুরের কথা উল্টো সেখানকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়ম ও নি¤œমানের কাজ হওয়ায় এটির নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ফাটল ও প্লাস্টার উঠে যাচ্ছে। এছাড়া মাঠের কাজ না করায় এর মাটি বৃষ্টির পানিতে ধ্বসে পড়েছে এবং ইট-সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা বেঞ্চগুলো পড়ে গেছে। এতে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে রয়েছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আক্তার এন্টারপ্রাইজের সাইট ম্যানেজার শামছুল হক সবুজ বলেন, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের কাজ ২০১৭ সালে টেন্ডার হওয়ার পর এটির নির্মাণ কাজ পায় আক্তার এন্টারপ্রাইজ ও ফোর সাইট। গত ২০১৯ সালে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সেটা সংস্কার কাজের সময় হয়েছে। বিল্ডিংয়ের কিছু কিছু অংশে ফাটল, প্লাস্টার উঠে যাচ্ছে এবং মাঠের চারিদিকে বসানো চেয়ারগুলো ভেঙে পড়ে গেছে। এছাড়া মাটি ধসে গেছে বলে জেনেছি। অতিদ্রুত সেগুলো সংস্কার কাজ শেষ করে স্টেডিয়ামটি স্থানীয় ইউএনও’র কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাসরীন পারভীন বলেন, মন্ত্রনালয় থেকে স্টেডিয়াম বিষয়ে আমাকে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। সুতরাং স্টেডিয়াম সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা নিষ্প্রয়োজন।

মজলুমের কণ্ঠ / ৭ নভেম্বর /আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles