কালিহাতীতে ধর্ষনের শিকার কিশোরী অত্মসত্বা

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামে ধর্ষনের শিকার হয়ে অত্মসত্বা হয়ে পড়েছে এক ১৩ বছরের এক কিশোরী। ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে ওই কিশোরীকে গর্ভপাত করারনোর জন্য শনিবার (২৬ মে) রাতে টাঙ্গাইল শহরের কুমুদিনী কলেজ গেইট এলকাায় মুন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে প্রভাবশালী ধর্ষক ও তার পরিবার।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে তরিঘরি করে রোববার (২৭) দুপুরে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছেলে ছেলে মামুন নিরীহ ওই ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে ছাড়পত্র প্রদান করে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করতে বলেন। তবে হাসপাতালের ছাড়পত্রে ধর্ষিতার গ্রামের বাড়ি মাটিকাটা ও উপজেলা ভূঞাপুর উল্লেখ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ধর্ষিতা ওই কিশোরী ভয়-ভীতি নিয়ে জানায়, কয়েক মার্স পূর্বে বাড়ির পাশে আম কুড়াতে যায় সে। ওই সময় পাশের বাড়ির প্রভাবশালী পিডিপির সাবেক কর্মকর্তা আনছের তার মুখ চেপে ধরে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করে।
ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য প্রাননাশের হুমকি দেয়। এ ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায়ই আনছের ওই কিশোরীকে ধর্ষন করতো বলে মেয়েটি অভিযোগ করে। কিছুদিন যাওয়ার পর কিশোরীর শারিরীক অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকলে পরিবারের লোকজন চিকিৎসকের পরমর্শ নিয়ে জানতে পারে মেয়েটি অত্মসত্বা।
পরে পরিবারের লোকজন আনছের আলীকে বিষয়টি জানালে উল্টো ভয়ভীতি দেখিয়ে তরিঘরি করে গর্ভপাত করার জন্য বলে।
পরে বাধ্য হয়ে ধর্ষিতা কিশোরীকে নিয়ে তার মা টাঙ্গাইল শহরের মুন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে গর্ভপাত করানোর সিদ্ধান্ত হয় কর্তৃপক্ষ ডাঃ মালেকা শফির (মঞ্জু) সাথে।
রোববার সকালে গর্ভপাত করানোর কথা ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ করেই হাসপাতালে পুলিশ আসে এবং তারিঘরি করে ছাড়পত্র দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়।
ধর্ষিতার মা জানান, আনছের প্রভাবশালী হওয়া তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। মেয়ের বিষয় নিয়ে তার কাছে কয়েকবার জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং দ্রুত গর্ভপাত ঘটানোর কথা বলে।
খবর পেয়ে টাঙ্গাইল থানা পুলিশ মুন জেনারেল হাসপাতালে গিয়েও কোন প্রকার পদক্ষেপ না নিয়েই সেখান থেকে চলে যান। অপরদিকে মুন জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আড়াল করতে টাঙ্গাইল জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির প্রভাবশালী দু’একজন কর্মকর্তা উঠেপড়ে লেগেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই হাসপাতালের একজন কর্মচারি জানান, এই হাসপাতালে প্রায়ই অবৈধ গর্ভপাত করানো হয়। এ নিয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। তারা সর্ব মহলেই ম্যানেজ করেই এ ব্যবসা পরিচালা করে চলে দীর্ঘদিন ধরে।
এদিকে মুন জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত মামুন রোববার দুপুরে ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে একটি রিক্সাযোগে পাঠানোর চেষ্টা করার সময় এ প্রতিবেদককে জানান, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে সেখানে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলেন। তার কথামতো টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকুর আলী মজলুমের কণ্ঠকে জানান, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
টাঙ্গাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান মজলুমের কণ্ঠকে  জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোন সমস্যা না থাকায় তারা তরা ফিরে আসে।

Related Articles