খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কঠোর আন্দোলনের পরিকল্পনা বিএনপির

ম.কণ্ঠ ডেস্ক : নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে ও বেগম জিয়ার মুক্তি দাবিতে কঠোর আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। তবে, আন্দোলন সফল করতে কৌশলগত কোনো রাজনৈতিক ঝুঁকি দলটি নেবে না বলেই জানাচ্ছেন শীর্ষ নেতারা। যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, কঠোর আন্দোলনের মতো শক্তি বা সামর্থ্যের পরিচয় এখনও দিতে পারেনি বিএনপি। নির্বাচনে না এসে বিএনপি আবারো আন্দোলনের নামে ধ্বংসের পথ বেছে নিলে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

এসব কিছু বিবেচনায়, নির্বাচন কেন্দ্রিক আন্দোলন ও দলীয় চেয়ারপারসনের কারামুক্তির আন্দোলন যুগোপৎভাবে এগিয়ে নিতে সম্প্রতি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে রাজনীতির মাঠে অনেকটাই কৌশলী ভূমিকা নেয় বিএনপি।

তবে, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন দলের নেতারা। চাইছেন আন্দোলনের কৌশলে পরিবর্তন আনতে। ভাবছেন আগামী দু’মাসের মধ্যেই কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার কথা। তবে, আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ধ্বংসাত্মক কোনো কর্মসূচি মেনে নেবে না সরকার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের দাবি পূরণ ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এটা কেউ বিশ্বাস করে না। সেইরকম আন্দোলন দেয়া হবে না। এবার সরকারের বিপক্ষে দুর্বার আন্দোলন দেয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) আন্দোলনে রাস্তায় কোনো মানুষ থাকে না। কঠোর তো দূরের কথা নরম আন্দোলন করতে পারবে কি-না, তারই প্রমাণ এই পর্যন্ত আমরা দেখতে পারছি না। যদি কেউ আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, সেই দায়িত্ব আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানে যেভাবে বলা হয়েছে, ঠিক সেইভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য বিশেষ ছাড় হবে না। রাজনীতিতে আলোচনার পথ কখনোই বন্ধ হয় না।’

আগামী নির্বাচনেও সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই দাবি করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলছেন, আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তবে তার প্রস্তাব বিএনপিকেই আগে দিতে হবে। যদিও বিএনপি নেতারা বলছেন, দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান কোনো বাধা নয়।’

সব কিছু বিবেচনায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরকারকেই ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

Related Articles