সোহাগের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী: ক্লাব বন্ধের দাবিতে লিখিত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া একতা যুব সংঘ ক্লাবের তত্ত্বাবধায়ক মো. সোহাগের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। তাই ক্লাবটি বন্ধের দাবিতে ২৪ জুন রবিবার সকালে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন ও পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এর হাতে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে এলাকাবাসী। জানা যায়, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দাইন্যা ইউনিয়নের শ্যামারঘাটের পূর্ব পাশ মোড়ে গোয়ালপাড়া একতা যুব সংঘ ক্লাবটি ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে অদ্যবদি পর্যন্ত বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ওই ক্লাবের তত্ত্বাবধায়ক মো. সোহাগ মিয়া সদর উপজেলার চরপাকুল্লা গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। জন্মের পর থেকেই সোহাগ গোয়ালপাড়া মামার বাড়ীতে বসবাস করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ অধিক সুদের বিনিময়ে ক্লাবটি সাধারণ জনগণকে ঋণ প্রদান করে থাকে। সুধের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় বেশীরভাগ মানুষকেই শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

ইতিপূর্বেও এলাকার মাধ্যমিক স্কুলের একজন শিক্ষকসহ একাধিক ব্যক্তিতে মারধর করে ওই যুবক। প্রতিনিয়তই রাতে ওই ক্লাবে জুয়া ও মাদকের আড্ডা বসে। ফলে এলাকার যুবক ছেলেরা মাদক ও জুয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও অভিযোগ জানিয়েছে এলাকাবাসী। সোহাগের নামে টাঙ্গাইল সদর থানায় মোটর সাইকেল চুরিসহ একাধিক মামলা অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন জেল হাজতেও মো. সোহাগ মিয়া। সোহাগ নৈরাজ্য থেকে মুক্তি চায় এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. লিয়াকত মিয়া বলেন, ‘আমার বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে ৬৩ হাজার টাকা নিয়ে এখন পর্যন্ত বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারেনি। তার নিকট টাকা ফেরত চাওয়ায় আমাকে একাধিক বার মারধর করেছে। আমি ওই ক্লাবটি বন্ধসহ সোহাগের শাস্তি দাবি করছি।’

শিক্ষক মো. আব্দুস ছাত্তার মিয়া বলেন, ‘আমার ভাতিজা সোহাগের ক্লাব থেকে টাকা নিয়েছিলো। সেই টাকার জন্য সোহাগ আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিতো। এক সময় আমার ভাতিজা টাকা না দেওয়ায় আমাকে সোহাগ শারিরিকভাবে মারধর করে। আমি সোহাগের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির পাশাপাশি আমাদের এলাকা থেকে ওই ক্লাবটি উচ্ছেদের দাবি জানাচ্ছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, সোহাগের বাসা চর পাকুল্লা গ্রামে কিন্তু রাজত্ব করে আমাদের এলাকায়। তার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। সে অবৈধ টাকা দিয়ে প্লেনে করে কক্সবাজার ঘুরে বেড়িয়েছে। কক্সবাজারে তোলা ছবি গুলো ক্লাবের প্রত্যেকটি দেওয়ালে টাঙ্গানো আছে। আমি ক্লাবটি উচ্ছেদের দাবি জানাচ্ছি যাতে করে আমাদের এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেরা মাদক ও জুয়ার দিকে অগ্রসর না হয়।

Related Articles