ভূঞাপুরে সোহরাব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুক্তমঞ্চ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

এস.এম আওয়াল মিয়া:

টাঙ্গাইল ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের রেহাই গাবসারা দুর্গম চর। অবহেলিত এই প্রত্যান্ত অঞ্চলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার জন্য নেই কোন মঞ্চ বা নির্দিষ্ট জায়গা। পিছিয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে ১০৭ নং সোহরাব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি (বাপসা) জেলা শাখার সভাপতি সোহরাব আলীর নিজস্ব অর্থায়নে মুক্তমঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গত বুধবার মুক্তমঞ্চ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এই বিদ্যালয়ে বহুতল ভবণ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সোহরাব আলী, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মরিরুজ্জামান, সাংবাদিক ইব্রাহীম ভূইয়া, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের সদস্য মো. তোফাজ্জল হোসেন, সমাজ সেবক মহর মন্ডল প্রমুখ।পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন শিল্পী মো. জিহাদ হাসান, জিসা, স্থানীয় শিল্পী সাথী ও কথা। এতে গিটার বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন সুজন ভৌমিক ও কিবোর্ডে বাদক ছিলেন ওস্তাদ বাচ্চু।

তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সালমা আক্তার বলেন, টিনের ঘরে রোদের সময় ক্লাশ করতে গরমে অনেক কষ্ট হয়। এছাড়াও শ্রেণীর কক্ষের জায়গাও খুব কম। অন্যান্য স্কুলের মতো আমাদের প্রতিষ্ঠানে একটি ভবণ হলে অনেক ভাল হতো। সরকারের কাছে একটি ভবণের দাবি জানাই।

মহর মন্ডল বলেন, আমরা দুর্গম চরবাসী বিভিন্ন দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিলাম। সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান করার মতো কোন নির্ধারিত জায়গা ছিলো না। এই মুক্তমঞ্চটি আমাদের গ্রামবাসীর অনেক উপকারে আসবে।

তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এই মুক্তমঞ্চ নির্মাণের মধ্য দিয়ে আমাদের গ্রামটি আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো। নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থীসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে উল্লাস দেখা দিয়েছে। একটি মাত্র টিনের ঘরে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের ক্লাশ করতে খুবই কষ্ট হয়। সরকারিভাবে একটি বহুতল ভবণ নির্মাণ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীসহ গ্রাম আরো এক ধাপ এগিয়ে যেতো।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সোহরাব আলী বলেন, মানুষ মরণশীল। প্রতিটি মানুষের মৃত্যুর পর তার কর্মই তাকে বাঁচিয়ে রাখে। সেই দিক চিন্তা করে আমার গ্রামের মানুষের জন্য আট বছর আগে বিদ্যালয়টি নির্মাণ করি। সেখানে শত শত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। পরে এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান করার জন্য মুক্তমঞ্চ নির্মাণ করছি। এলাকার মানুষের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমি পাশে আছি।

(মজলুমের কণ্ঠ / ১০ সেপ্টেম্বর/ আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles