বিদ্যালয়ের চারিদিকে থৈ থৈ পানি, বাড়ির উঠানে ক্লাশ

বিশেষ প্রতিবেদক:

বন্যার শুরু থেকে বিদ্যালয়ের চারিদিকে থৈ থৈ পানি। বর্তমানেও শ্রেণী কক্ষেও তিন ফুটের মতো পানি রয়েছে। বন্যার পানির কারণে স্কুলে প্রবেশ ও ক্লাশ নেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেই। এদিকে করোনাভাইরাস স্বাভাবিক হওয়ায় রোববার থেকে শ্রেণী কক্ষে ক্লাশ শুরু হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে স্কুলের পাশেই এক বাড়িতে বিকল্প হিসেবে ক্লাশ নেওয়া হয়েছে। এতেও শিক্ষার্থীদের জায়গা সংকটসহ গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বশরীরের ক্লাশে অংশ নিতে পেরে খুব খুশি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হোসনেআরা আক্তার জানান, বন্যার শুরু থেকে স্কুলে পানি প্রবেশ করেছে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে স্কুলের জমিদাতা নজির হোসেনের বাড়ীতে ক্লাশ নেয়া হয়েছে। ঘরে মেঝে ও উঠানে ক্লাশ নেওয়া হয়েছে। রোববার প্রথম দিনে ৫ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ক্লাশ ছিলো। উপস্থিতিও ছিলো ভাল। স্কুলে প্রথম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ১১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দীর্ঘদিন পরে হলেও শিক্ষকদের ক্লাশে সরাসরি অংশ নিতে পেরে শিক্ষার্থীরা খুব খুশি।
পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী নিলুফা আক্তার বলেন, অনেক দিন পর ক্লাশ করতে পেরে অনেক ভাল লাগছে। তবে আমাদের রঙিন স্কুলে ক্লাশ করতে পারলে আরো বেশি ভাল লাগতো। কিন্তু বন্যার কারণে আমাদের স্কুলে অনেক পানি। দীর্ঘদিন পর অনেক বন্ধুরা এক সাথে ক্লাশ করতে পেরে আমি খুব খুশি।

একই শ্রেণীর নিঝুম আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকলেও তেমন পড়তে পারিনি। স্কুলে ক্লাশ নিলে বন্ধুদের সাথে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পড়াশোনা করা যায়। পড়ালেখাও ভাল হয়।

স্কুলের শিক্ষক মো. আলমগীর ভূইয়া বলেন, বিভিন্ন স্কুলে উৎস মুখর পরিবেশে ক্লাশ নিতে পারলেও বন্যার কারণে আমরা নিতে পারিনি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্লাশ করেছি। তবে জায়গা সংকুলান থাকায় শিক্ষার্থীদের বসতে কষ্ট হয়েছে। প্রচন্ড গরমেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পুরা এলাকাতেই পানি থাকায় দূর থেকে নৌকা যোগে স্কুলে যেতে হয়। শুকনো মৌসুমেও কাঁদার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সব মিলিয়ে হতাশার মধ্যে আছি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হোসনেআরা আক্তার বলেন, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মাস্ক দেওয়া হয়েছে। হ্যান্ড স্যানেটাইজারসহ সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ছিলো। বন্যার পানি সরে গেলে শ্রেণী কক্ষেই ক্লাশ নেয়া হবে।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের ২ হাজার ৪২০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণী কক্ষে ক্লাশ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যে এক হাজার ৬২৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৭৯৬ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুল দিয়ে বরণসহ নানা আয়োজনে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাস্কসহ করোনা প্রতিরোধক সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলায় শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসিত।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে স্বশরীরে ক্লাশ নেয়া হয়েছে। বাসাইলের রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ও শ্রেণী কক্ষে পানি থাকায় পাশের বাড়ীর উঠানে ক্লাশ নেয়া হয়েছে। এই বিদ্যালয়টি একতলা। কিন্তু বন্যার পানি প্রবেশ করা অন্য সব স্কুল ভবন বহুতল হওয়ায় বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষেই ক্লাশ নেয়া সম্ভব হয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম বলেন, সারাদেশের সাথে এক সাথে টাঙ্গাইলের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণী কক্ষে ক্লাশ নেয়া হয়েছে। দীর্ঘ দিন পর স্কুলে ক্লাশ করার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

(মজলুমের কণ্ঠ / ১২ সেপ্টেম্বর/ আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles