গোপালপুরে চেয়ারম্যানের সহায়তায় স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার

গোপালপুর প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বহু আবেদন-নিবেদনের পরও কর্তৃপক্ষের কোনোরূপ সাড়া না পেয়ে অবশেষে নিজস্ব অর্থায়নে খানাখন্দে ভরা চলাচলের অনুপযুক্ত সড়ক সংস্কার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন উপজেলার আলমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন ও নবগ্রামবাসী।

গতকাল সোমবার সকাল দশটায় আলমনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড নবগ্রাম বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন নয়াপাড়ার প্রায় এক কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কটি সংস্কার কাজের পরিদর্শন করেন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতা আকতার হোসেন জানান, গ্রামীণ এই কাঁচা সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের চলাফেরা। প্রতিবছর বর্ষামৌসুমে খানাখন্দে ভরা সড়কটি হাঁটু পর্যন্ত জলসিক্ত পঙ্কিল মাটি হওয়ায় চরম জনদুর্ভোগ পোহাতে হয়। জনদুর্ভোগের এমন খবরে আলমনগর ইউনিয়নের বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন নিজস্ব অর্থায়নে পরিমান সংখ্যক ইটের ব্যবস্থা করে দেন। এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে ইটগুলো দিয়ে সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে তুলেন।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আঃ মান্নান জানান, গোপালপুর ভায়া হেমনগর ও ঝাওয়াইল সড়কের নবগ্রাম বাজার জামে মসজিদের সামনে দিয়ে একটি মেঠো পথ নবগ্রাম দক্ষিণ পাড়া ও মাদারজানী সড়কে সংযোগ হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন ইতিপূর্বে একাধিকবার মেঠোপথটিতে মাটি কেটে প্রশস্ত করে সড়কে রুপান্তর করেছেন। পায়ে হাটা পথ এখন মানুষসহ যানবাহন চলাচলের উপযোগী সড়ক হওয়ায় দুই পাশে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ী। বর্ষামৌসুমে অতিরিক্ত ভারিযান চলাচলের কারণে সড়কটি খানাখন্দে ভরে যায়। চলাচলে জনদুর্ভোগ লাঘবে চেয়ারম্যান মহোদয় নিজস্ব অর্থ দিয়ে সড়কটি পুনরায় সংস্কার করেন।

নবগ্রাম বাজার বণিক সমিতি পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. সেলিম হোসেন জানান, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কারে আলমনগর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন মহোদয়ের মতো দেশের সকল জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিত্তবানরা এভাবে এগিয়ে এলে বাংলাদেশ আরও উন্নত হতো। আমি ইউপি চেয়ারম্যানের এ মহান উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন বলেন, প্রতিবছর বর্ষাকালে ইউনিয়ন পর্যায় অনেক গ্রামীণ পথ চলাচলের অনুপযুক্ত হয়। স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করলে দেশের উন্নয়নে শামিল হওয়ার পাশাপশি সরকারের হাতকে শক্তিশালী করা সম্ভব। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আঃ জুব্বার আকন্দ, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল আকন্দ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আঃ হালিম, সাধারণ সম্পাদক আঃ মান্নান, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হারুণ অর রশিদ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুজাত আলী, আকতার হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খাদেমুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা সুলতান আকন্দ, রাসেল মিয়া ও সিফাতুল্লাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

(মজলুমের কণ্ঠ / ১৩ সেপ্টেম্বর/ আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles