ইভ্যালির রাসেল ফের রিমান্ড, কারাগারে শামীমা

অনলাইন ডেস্ক:

প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের আরেক মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলের ফের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত রাসেলের স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. হাসিবুল হক এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হুদা আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

এদিকে আজ আসামি মো. রাসেল ও শামীমা নাসরিনের মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন করেন পঞ্চাশের বেশি মানুষ। তারা নিজেদের ইভ্যালির গ্রাহক বলে দাবি করেছেন। ঢাকা সিএমএম আদালতের সামনের সড়কে সকাল ১০টার পর থেকে বেলা ১১টার পর্যন্ত এ মানববন্ধন কর্মসূচি হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলেন, তারা ইভ্যালিতে পণ্য অর্ডার করেছেন, এখনো পাননি। তাদের (রাসেল ও শামীমা) মুক্তি দেওয়া হলে হয়তো তারা পণ্য পেয়ে যাবেন। মামলায় তাদের কোনো লাভ হবে না। এর আগেও গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাসেল দম্পতিকে আদালতে হাজির করা হলে কিছু লোক মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছিল।

এর আগে আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় গুলশান থানার একই অভিযোগের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। তাদের সরাসরি সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সেখান থেকে বেলা ৩টার দিকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মেট্রো কভারেজ, সার্টি ফুড অ্যান্ড বেভাদ্রেজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম চকদার তার মালিকানাধীন চারটি কোম্পানির মাধ্যমে যথাক্রমে- ১. মেট্রা কভারেজ-১০ লাখ ৫৮ হাজার ২৭২ দশমিক ৫০ টাকা ২. স্মার্ট ফুট অ্যান্ড বেভারেজ-১৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৫০ টাকা ৩. ফ্রিডম এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট বিডি-৭ লাখ ৩০ হাজার ৫৯৭ টাকা ও ৪. ফিউচার আইটি-৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮২৩ টাকাসহ সর্বমোট ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪২ দশমিক ৫০ টাকার পণ্য আসামিদের সরবরাহ করেন। কিন্তু আসামিরা গত মে মাসে পোস্ট ডেটের একটি চেক গত ৩০ জুন উল্লেখ করে দিলেও পর্যাপ্ত টাকা তাদের একাউন্টে না থাকায় চেকটি ফেরত আসে। এরপর গত ২৯ আগস্ট বাদী পাওনা টাকা পরিশোধে তাদেরকে চিঠি মারফত জানানোর পরও তারা বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়,মামলার আসামিরা বাদীকে বিভিন্ন ইমেইল এবং মুঠোফোনের মাধ্যমে প্রলোভনে দেখায় এবং পণ্য সরবরাহের ৩০ দিনের মধ্যে বাদীর পাওনা সমুদয় টাকা পরিশোধ করার অঙ্গীকার ও চুক্তিনামা স্বাক্ষর করে। বর্তমান পাওয়ানা টাকা পরিশোধের জন্য তাদের কারও সঙ্গে বাদী যোগাযোগ করতে পারেনি। তাদের অফিসে গিয়ে বাদীর পাওনা টাকা চাইলে বিভিন্ন তালবাহানাসহ আসামিরা বাদীর সঙ্গে খারাপ আচরণসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। তাই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম গুলশান থানার মামলায় এ আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তার আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে।

এরও আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকার অর্ডার পণ্য না পেয়ে গুলশান থানায় রাসেল ও নাসরিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ইভ্যালি পণ্য বিক্রির নামে নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার মতো অসংখ্য গ্রাহকের ৭০০-৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

(মজলুমের কণ্ঠ / ২১ সেপ্টেম্বর/ আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles