মির্জাপুরে নৌকার মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে যারা

মো.সাজজাত হোসেন ঃ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। কিছুটা কমছে সংক্রমণ। মহামারীর ধাক্কায় কাটিয়ে কয়েক দিন পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফশিল। বসে নেই প্রার্থীরা।
তফশিল ঘোষণার আগেই ইতোমধ্যে মাঠে মায়দানে প্রার্থীদের দোড়ঝাপ শুরু হয়েছে। নৌকা পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে সম্ভাব্য সকল প্রার্থীরা। ব্যতিক্রম নয় মির্জাপুর উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নও। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মির্জাপুর উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে ভাদগ্রাম ইউনিয়নে উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান মো.মোবারক হোসেন,ভাওড়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান মো.আমজাদ হোসেন, বহুরিয়া ইউনিয়নে আ.লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মো.আবু সাঈদ সাদু, গোড়াই ইউনিয়নে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো.আদিল খান, আজগানা ইউনিয়নে উপজেলা আ.লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান মো.রফিক সিকদার,বাঁশতৈল ইউনিয়নে আ.লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মো.ছামছুল আলম,তরফপুর ইউনিয়নে মো.শরিফুল ইসলাম,লতিফপুর ইউনিয়নে উপজেলা আ.লীগের সদস্য বর্তমান চেয়ারম্যান মো.জাকির হোসেন,ফতেপুর ইউনিয়নে উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান মো.হুমায়ন তালুকদার, মহেড়া ইউনিয়নে  আ.লীগ নেতা বিভাস সরকার নুপুর, জামুর্কী ইউনিয়নে ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো.ইলিয়াস আহমেদ,আনাইতারা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মো.জাহাঙ্গীর আলম,বানাইল ইউনিয়নে ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক সভাপতি মো.শামীম কবির,উয়ার্শী ইউনিয়নে জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান মো.মাহাবুব আলম মল্লিক।
তারা ইউনিয়নের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উন্নয়নম‚লক কাজে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি প্রতিনিয়তই ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎসহ নানা কর্মস‚চিতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে জানান দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে মনোনয়ন দৌড়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগের  এই নেতারা।
নৌকা পেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে বুকে ধারণ করেই ইউনিয়নবাসীর জন্য কাজ করার অঙ্গিকারও করেছেন তারা।
গোয়েন্দা স‚ত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। এলাকায় সম্পৃক্ততা, রাজনীতিতে ত্যাগ স্বীকার, জনসেবা, সমাজসেবা, দলীয় কর্মস‚চীতে সক্রিয়তা, করোনায় মানবিক সহায়তা ইত্যাদি বিষয়ে অধিকতর খোঁজ খবর নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরী কাজ চলমান রয়েছে।
আ.লীগ স‚ত্রে জানা গেছে, গেল নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীদেরর বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আওয়ামীলীগ। নৌকা বিদ্রোহীরা আওয়ামীলীগের শত্রু, তারা কখনোই দলীয় মনোনয়ন পাবে না। তাছাড়া এবার যারা নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিবে তাদের দল থেকে আজীবনের জন্য বহিঃস্কার করা হবে। তারা আর আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে পারবে না।
এলাকাবাসীরা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন চলাকালীন সময়ে তারা এলাকার অসহায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণসহ প্রতিনিয়ত এলাকাবাসীর খোঁজখবর রাখছেন। এছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন গ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগাম গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
এদিকে করোনা মহামারীর ব্যাপকতা বেড়েই চলছে এর শেষ নির্ণয় করতে পারছে না কেউ। তবে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার ৫৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করার কথা রয়েছে। তাই সারা দেশে বইতে শুরু করেছে ইউপি নির্বাচনী হাওয়া। করোনার ধাক্কায় নির্বাচনী আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তেমনই এক জনপদ মির্জাপুর উপজেলা। সম্ভাব্য সকল প্রার্থীরা ভোটারদের পাশাপাশি দলীয় নেতৃবৃন্দের মন জয় করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। বিভিন্ন উপলক্ষ ছাড়াও সামান্য সুযোগে নিজেকে তুলে ধরতে চেষ্টার কমতি নেই কারোরই।
প্রার্থীরা বলেছেন, জীবনের অর্ধেক সময় ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি। আশা করি প্রাণপ্রিয় নেতা ও জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন বঞ্চিত করবেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের অংশীদার হতে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দীর্ঘদিনের অবহেলিত ইউনিয়নকে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করবো। তাই আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য সমর্থন ও ভোট প্রার্থনা করছি। নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ইউনিয়ন উপহার দেব। ইনশাআল্লাহ।

Related Articles