নৌকায় চড়তে চান একই পরিবারের তিনজন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একই ইউনিয়নে একই পরিবারের তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। উপজেলার মহেড়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া, তাঁর স্ত্রী রাজিয়া বেগম ও বাদশা মিয়ার ছোট ভাই আওলাদ হোসেন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলেছেন। তিনজনই ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগে থেকে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।

ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁরা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। বাদশা মিয়া মহেড়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। গত নির্বাচনে তিনি নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রাজিয়া বেগম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা ও উপজেলা নারী জাগরণ সংস্থার সভাপতি। আর ছোট ভাই আওলাদ হোসেন উপজেলা যুবলীগের সদস্য। গত ইউপি নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তার ভা ইবাদশা মিয়ার পক্ষে কাজ করেছেন।

এ ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী বাদশা মিয়া বলেন, আমি এলাকা ঘুছিয়ে রেখেছি। গতবছর আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। মন খারাপ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েও নৌকার প্রার্থী বিভাষ সরকার নুপুরকে হারিয়ে ২০৮০ ভোট বেশি পেয়ে জয় লাভ করি। এবার শুনছি গতবারের বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন দেবে না। এই খবর পেয়ে আমার ছোট ভাই আওলাদও মনোনয়ন পত্র তুলেছে। এদিকে নৌকাকে ধরে রাখতে আমার স্ত্রীর নামেও মনোনয়ন তুলেছি। আমার স্ত্রীও আমার মতোই জনপ্রিয়। তাকে দল মনোয়ন দিলেও সে জয়ী হবে।

বাদশা মিয়ার ছোট ভাই নৌকা প্রত্যাশী আওলাদ হোসেন বলেন, আমরা সাত ভাই। আমাদের পরিবার আওয়ামী পরিবার। সবাই আওয়ামীলীগ করেন। আমি মির্জাপুর কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ছিলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, বর্তমান উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য। আমার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিদ্রোহীদের এবার দল মনোনয়ন দেবে না। এজন্য আমি দলীয় মনোয়ন চেয়েছি। ইতোমধ্যে আমি ১৭ টি গ্রামে উঠান বৈঠক করেছি। আমি পারিবারিক ও ইউনিয়ন-উপজেলা আওয়ামীলীগের নের্তৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করেই দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি। আমি আশাবাদী দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। তবে দল যাকেই মনোনয় দিক আমি তার হয়েই কাজ করবো।

এদিকে গত নির্বাচনে নৌকা পাওয়া এবারের নৌকা প্রত্যাশী বিভাষ সরকার নুপুর বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বিদেশ, সাধারণ সম্পাদক বিদ্রোহী প্রার্থীর ছোট ভাই। কোন বর্ধিত সভা না করেই আমাকে ৩ নম্বর মনোয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তালিকা জমা দিয়েছে। কিন্তু আমি ছাড়া যারা নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন তারা গত নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী, তার স্ত্রী ও ছোট ভাই। দলীয় নিয়ম অনুসারে বিদ্রোহীরা নৌকার মনোনয় পাবেন না। গতবারর আমি নৌকা পেয়েছিলাম, এবারও নৌকার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।
পঞ্চম ধাপে ৫ জানুয়ারি মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

(মজলুমের কণ্ঠ / ১ ডিসেম্বর / আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles