টাঙ্গাইল-৭ উপনির্বাচন: ভোট কারচুপির অভিযোগ জাতীয় পার্টির প্রার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনের ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল হক জহির।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মির্জাপুর এসকে পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্রে তিনি এ অভিযোগ করেন।

জহিরুল হক জহির অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজন লাঙল মার্কার এজেন্টদের বের করে দিচ্ছে। এ ছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে জোরপূর্বক নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করছে।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকার প্রার্থী খান আহমেদ শুভ বলেন, সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট চলছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। মির্জাপুরের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ভোটাররা তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান জাতীয় পার্টির প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কোনো অভিযোগ পাইনি। অনেক কেন্দ্রে লাঙলের এজেন্ট দেওয়া হয়নি। সকাল থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি ও পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার নির্বাচনি এলাকা পরিদর্শন করেন এবং নির্বাচনি সুষ্ঠু পরিবেশের সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এদিকে জেলায় প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন ইভিএমের মাধ্যমে এ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়বে বলে জানিয়ে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন অফিসসূত্রে জানা যায়, নির্বাচনি এলাকায় একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, চার প্লাটুন বিজিবি, ৮১০ পুলিশ সদস্য ও ১০টি র্যাবের মোবাইল টিম, প্রায় সাড়ে ১৮০০ আনসার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছেন।

এ উপনির্বাচনে পাঁচ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তারা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খান আহমেদ শুভ (নৌকা), জাতীয় পার্টির জহিরুল হক জহির (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির গোলাম নওজব, চৌধুরী (হাতুড়ি), বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির রুপা রায় চৌধুরী (ডাব) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরু (মোটরগাড়ি)।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র আরও জানায়, এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৪০ হাজার ৩৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭০ হাজার ৫০১ জন, মহিলা ভোটার এক লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৮ জন। পাঁচজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২১টি। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৭টি, সাধারণ কেন্দ্র ৬৪টি।ড আর নির্বাচনে ভোট কক্ষ রয়েছে ৭৫৬টি। নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ এবং আনসার মিলিয়ে ১৯ থেকে ১৮ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে র্যাব এবং ডিবির টিমও কাজ করছে। অপরদিকে প্রতিটি ইউনিয়নে পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স ও একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ নভেম্বর এ আসনের টানা চারবারের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন মারা গেলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

 

মজলুমের কণ্ঠ / ১৬ জানুয়ারি / আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles