মা কই-মা যাবো-আমি সিঙ্গারা খাবো

মির্জাপুর প্রতিনিধি : মা কই, মা যাবো, সিঙ্গারা খাবো, এই কথা বলে মাকে খুজছে আর বার বার কান্না করছে নিহত গার্মেন্টস কর্মী শিউলীর আড়াই বছরের শিশু পুত্র তাওহীদ।

নিহত গার্মেন্টস কর্মী শিউলীর কোলে আড়াই বছরের শিশু পুত্র তাওহীদ

অবুঝ শিশুকে শান্তনা দেওয়ার মত ভাষা কারো নেই। শিশুর কথা গুলি শুনে চোখের জল ফেলছে পরিবার ও ওই বাড়িতে আসা লোকজন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে দুষ্কৃতিকারীদের থেকে নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে চলন্ত বাস থেকে পড়ে গার্মেন্ট কর্মী শিউলী বেগম (২৮) এর মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে শিউলী বেগম শ্রমিকদের আনা নেওয়ার জন্য নির্ধারিত বাসটি ফেল করে। সাড়ে ৭টায় একটি বাস যোগে শিউলী তার কর্মস্থল গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কমফিট কম্পোজিট গার্মেন্টে যাওয়ার জন্য উঠেন। বাসে উঠার পর যাত্রীবেশে থাকা কয়েকজন দুস্কৃতিকারী তাকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে।

এসময় শিউলী বেগম বাসের ভেতর থেকে বাঁচাও বাঁচাও করে চিৎকার করতে থাকে বলে মহাসড়কের ওই স্থানে থাকা বাওয়ার কুমারজানি গ্রামের শিউলী বেওয়া ও আব্দুর রউফ পুলিশকে জানিয়েছেন।

এক পর্যায় সে জানালা দিয়ে মাথা বের করেও চিৎকার করতে থাকেন। দুষ্কৃতিকারীদের কাছ থেকে সম্ভ্রম বাঁচতে শিউলী  চলন্ত বাস থেকে লাফ দিলে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যান।

ঘটনার পর শিউলীর বড় ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সিফাত মায়ের জন্য কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে পরিবার ও আশপাশের বাড়ির লোকজন তাকে কোনভাবে সামলে নিতে পারলেও অবুজ শিশু পুত্র আড়াই বছর বয়সী তাওহীদকে সামলানোর ভাষা কারো নেই। কারন সে তার মায়ের আদর স্নেহজনিত কিছু মুহুর্তই বুজতে শিখেছে। তাওহীদ তার চাচী রত্না বেগমকে মাঝে মধ্যে মা বলে ডাকলেও শান্ত হচ্ছে না। শিউলী বেগম প্রতিদিন তার কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে তাওহীদের জন্য সিঙ্গারা নিয়ে আসতেন। মাকে না পেয়ে সেই সিঙ্গারার কথাই তার মনে পড়ছে। সন্ধে হলেই সেই মুহুর্ত তার মনে পড়লে তখনই সে বলে উঠে মা কই, মা যাবো সিঙ্গারা খাবো।

তার এই প্রশ্নের জবাব পরিবার ও আশপাশের বাড়ির কেউ দিতে পারেনা, শুধু মুখ লুকিয়ে চোখের জল ফেলছেন।

প্রতিবেশী আসাদ খান ও সাইফুল খান বলেন, অবুঝ শিশু দুটি যখন তাদের মাকে খুঝে তখন আমরা তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারিনা। কৌশলে বড় ছেলে সিফাতকে সামলে নিলেও তাওহীদকে সামলানোর ভাষা নেই।

তাওহীদের চাচী রত্না বেগম বলেন, শিশু তাওহীদের কান্নায় বুক ছিড়ে যাচ্ছে।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ একে এম মিজানুল হক বলেন পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Related Articles