হামলায় আহত সাংবাদিকরা মামলা করতে পারেন: ডিএমপি কমিশনার

ম.কণ্ঠ ডেস্ক : হামলায় আহত সাংবাদিকদের মামলা করার পরামর্শ দিলেন ঢাকা মেট্রোপলিচন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

আজ শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ট্রাফিক সপ্তাহের শেষ দিনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, সাংবাদিকরা মামলা করতে পারেন। তবে মামলা না করলেও পুলিশ হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে ঘটনার ছবি, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া রাস্তায় কোনো গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। ট্রাফিক সপ্তাহ শেষ হলেও আরো তিনদিন চলবে বিশেষ অভিযান। এরপর সারা বছরই নিয়মিত অভিযান চলবে। সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিকরা। এর প্রতিবাদে ও দায়ীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করছে সাংবাদিকরা।

এসময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পুলিশের বিবেককে নাড়া দিতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান মিয়া। আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমরা এই ট্রাফিক সপ্তাহে ব্যক্তি, পেশা, তাঁর অবস্থান নির্বিশেষে সবাইকে এই বার্তা দিতে পেরেছি যে, ট্রাফিক আইন অমান্য করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আমাদের কোমলমতি শিশু-কিশোররা আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তাদের দাবি যৌক্তিক, ন্যায্য। আমরা নৈতিকভাবে এটাকে সমর্থন করি। তাদের বার্তা আমরা অন্তরে ধারণ করি। সেই তাড়না থেকে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, ঢাকা শহরে কেউ ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে, সে যেই হোক, যে শ্রেণি-পেশারই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা হবে।

মোটরসাইকেলের রেস, বাসের পাল্লাপাল্লি, রাস্তার মাঝখানে গাড়ি দাঁড় করানো, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ সময় ডিএমপি কমিশনার ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে ছয়দিনে পুলিশের অভিযানের কিছু তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সময়ে ট্রাফিক আইন অমান্য করায়, বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে মোট ৫২ হাজার মামলা হয়েছে। লাইসেন্স না থাকায় মোট ১১ হাজার ৪০২ জন চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ফিটনেস না থাকায় ডাম্পিং করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৭২টি গাড়ি আর এই সময়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে তিন কোটি টাকার বেশি।

এ সময় আসাদুজ্জামান মিয়া আরো জানান, চলতি ট্রাফিক সপ্তাহের কর্মসূচি আরো তিনদিন বাড়ানো হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার আরো জানান, গত দুই বছরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করার কারণে ৪৪ হাজার ৫৮৫টি গাড়িটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবৈধ হুটার ও বিকন লাইট ব্যবহার করায় পাঁচ হাজার গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্টো পথে গাড়ি চালানোর দায়ে এক লাখ ৪৪ হাজার ৪৬১টি মামলা করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্টিকার লাগিয়ে ট্রাফিক সিগনাল অমান্য করার দায়ে এক হাজার ৪৭টি মামলা করা হয়েছে। কালো গ্লাস ব্যবহারের জন্য মামলা হয়েছে ছয় হাজার ১৬২টি। চার লাখের বেশি মোটরসাইকেল আরোহীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল আটক করে ডাম্পিংয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন করে ভিডিও মামলা করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কমিশনার।

তিনি জানান, এরইমধ্যে ৯৯ হাজার গাড়ির বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়ায় মামলা হয়েছে। আগামি দিনে এই সংখ্যা আরো বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার আক্ষেপ করে বলেন, বিদেশে শতকরা ৯৮ জন মানুষ আইন মানে, দুজন লোক আইন মানে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলপ্রয়োগ করে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের দেশে এই চিত্রটি ঠিক তার বিপরীত। এখানে শতকরা ৯০ জন লোক আইন মানে না, ১০ জন লোক আইন মানে। ৯০ জনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা খুব কঠিন। পুলিশ বিভাগ সেই কঠিন কাজটিই করে যাচ্ছে। শুধু আইন প্রয়োগ করে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান মিয়া।

তিনি বলেন, এর জন্য মানুষের সচেতনতা দরকার। ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করার জন্য আমরা পথচারীদের অনুরোধ করছি। চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে কেউ রাস্তা পারাপার হবেন না। রাস্তার পারাপারের সময় কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles