টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গরুর জন্য ‘আবাসিক হোটেল’

নিজস্ব প্রতিবেদক : গরুর জন্য আবাসিক হোটেল। শুনতে আশ্চর্য হলেও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গরুর হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে গরুর ‘আবাসিক হোটেল’। বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ এই হোটেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরুর ব্যবসায়ীরা গরু রেখে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে অনেক বছর ধরে।

এদিকে গরুর এই হোটেল ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছে এলাকার শতাধিক পরিবার। বিশেষ করে কোরবানীর ঈদ আসলে গরুর হোটেল ব্যাবসা আরও জমজমাট হয়ে উঠে। সপ্তাহের প্রতি রবিবার ও বৃহস্পতিবার বসে এই হাট।

বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে যমুনা নদী তীরবর্তী ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী গরুর হাটকে কেন্দ্র করে হাটের চারপাশে গড়ে উঠেছে শতাধিক পশুর আবাসিক (বোডিং) হোটেল। গরুর হোটেলগুলোর জন্যই এখানকার হাটে নিরাপদ পরিবেশে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া বেচাকেনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অল্প সময়েই গোবিন্দাসী হাট পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম পশুর হাটে। আর এই হোটেল গুলোতে গরু রেখে ব্যবসা করতে পেরে খুশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত গরুর ব্যবসায়ীরা।

একাধিক হোটেল মালিকরা জানান, হোটেলে প্রতিটি গরুর জন্য প্রতি দশ টাকা থেকে পনের টাকা ভাড়া নেয়া হয়। গরু ব্যবসায়ীরা নিরাপদে এখানে গরু রাখেন। হোটেলের ভাড়া দিয়ে সংসার ভালই চলছে বলে জানিয়েছেন তারা।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গরুর ব্যবসায়ীরা জানান, গোবিন্দাসী হাটে তারা গরু বিক্রি করার জন্য আসেন। হাটের দিন গরু বিক্রি না হলে তখন তারা এই সকল গরুর বোর্ডিং (হোটেল) এ গরু রাখেন। এই গরুর হোটেল থাকায় ব্যবসা করা সুবিধা হচ্ছে।

গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বাবলু মজলুমের কণ্ঠকে জানান, হাটের কিছু সমস্যা আছে এগুলোর সমাধান করতে পারলে ব্যবসায়ীরা আরো ভালভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। আর হোটেল মালিকরাও তাদের ব্যবসা করে ভালভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ মজলুমের কণ্ঠকে জানান, গরু হাটের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প তৈরি করে কাজ শুরু করা হয়েছে। অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। এতে করে হাটে গরু সরবরাহ বেশি হবে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা নিরাপদে গরু রাখতে পারবেন। ফলে হাটকে কেন্দ্র করে যেমন আরো বেশি গরুর হোটেল তৈরি হবে অন্যদিকে হোটেল ভাড়া দিয়ে বহু মানুষের জীবিকা নির্বাহ হবে।

Related Articles