গোপালপুরে তালুকদার পরিবারের কাছে জিম্মি এলাকার মানুষ!

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে তালুকদার পরিবারের কাছে জিম্মি মির্জাপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার। শিক্ষকসহ এলাকার সাধারন মানুষের উপর নির্যাতন, মারধর, সরকারি জমি, বিল জবর দখল সবই করছে তালুকদার পরিবার। গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান তালুকদার ও তার ভাইদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকার সাধারন মানুষ। সম্প্রতি তালুকদার পরিবারের হাত থেকে বাঁচতে ও সরকারি বিল দখলমুক্ত করার দাবীতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করেছে স্থানীয়রা। প্রতিকার পেতে পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েকমাস আগে বড়শিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে হালিমুজ্জামানের ভাই হারুন অর রশিদ তালুকদারসহ তার পরিবারের লোকজন মারধর করে। সেই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া মির্জাপুর ইউনিয়নের বড়শিলায় সরকারি বিল নামেমাত্র ইজারা নিয়ে স্থানীয়দের জমিসহ ৭হাজার একর জমিতে জোরপূর্বক মাছ চাষ করছে। যদিও সরকারি খাস জমি রয়েছে এক একর ৮০ শতাংশ। এই বিল হালিমুজ্জামানের বড় ভাই হারুন তালুকদারসহ তার পরিবারের লোকজন দখল করে খাচ্ছে। এবিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে এলাকাবাসী।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান তালুকদার, তার ভাই হারুন তালুকদার, হারুনের ছেলে মেহেদী তালুকদার, মামুনুর রহমান, আকাশ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করায় এলাকার মানুষ ভয়ে কিছু বলতে পারে না। স্থানীয় লোকজন তাদের নিজ জমি ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করতে আসে। এছাড়া মাছ চাষে নিষেধ করে তালুকদারের পরিবার। যেকোন সময় জমি নিয়ে খুন-জখমের আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া স্কুলের সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছে হারুন তালুকদার।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামানের বিরুদ্ধে মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানীয় সরকার বিভাগের দ্বিতীয় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-২) ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থ বছরের অডিট প্রতিবেদনে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টিগুলো উঠে এসেছে। ইউনিয়নের এলজিএসপির ১১টি প্রকল্পের অডিট প্রতিবেদনের তদন্ত করে আপত্তি জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সেই সাথে ১১টি প্রকল্পের বাড়তি টাকা ফিরতের জন্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অভিযোগ আছে, একদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পদের অধিকারী অপরদিকে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সুবাদে স্থানীয় সংসদ সদস্য কোঠায় বরাদ্দ অনেক প্রকল্পের টাকা আত্মস্যাত করেছে হালিমুজ্জামান তালুকদার। ভূঞাপুর পৌর এলাকায় বিলাস বহুল অট্টালিকা নির্মাণ করেছে হালিমুজ্জামান তালুকদার।

সম্প্রতি তালুকদার পরিবারের অত্যাচার, অন্যায় ও দখল নিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন এশিয়ান টিভিতে ক্রাইম সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। ক্রাইম প্রোগ্রামের পুরো অংশে তালুকদার পরিবারের রাজত্বসহ বিভিন্ন অপরাধ তুলে ধরা হয়।

ভুক্তভোগী এলাকার অনেকেই জানান, তালুকদার পরিবারের একনায়কন্ত্রের কারনে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারন মানুষ। ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। সরকারি বিলের পাশে স্থানীয় অনেক মানুষের জমি রয়েছে সেগুলোও দখল করে মাছ চাষ করছে তালুকদার পরিবারের লোকজন।

বড়শিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতি হারুন অর রশিদ তালুকদার অন্যায়ভাবে শিক্ষার্থীদের সামনে তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে আমার উপর হামলা করে। তার বিভিন্ন অনিয়মের সায় না দেয়ায় আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। কয়েকদিন বিদ্যালয়ে যেতে দেয়া হয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে হারুন অর রশিদ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, অনেক বছর ধরে বিদ্যালয়ে সভাপতি হিসেবে আছি। কোন ধরনের অভিযোগ নেই আমাদের বিরুদ্ধে। সরকারি বিল সরকারিভাবে ইজারা নেয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, কিছু লোক আমার পরিবার ও আমার সম্মানক্ষুন্ন করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ নেই।

গোপালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, মির্জাপুর ইউনিয়নের বড়শিলা স্কুলের শিক্ষককের মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছিল। মামলার তদন্ত কাজ চলছে। আমরা এখনও মেডিকেল রিপোর্ট পাইনি। খুব দ্রুত আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশীট প্রদান করা হবে।

Related Articles