দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত জয়নাল আবেদীনকে টাঙ্গাইলে দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত জয়নাল আবেদীনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ মে) সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কালিবাড়ি গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সোমবার ভোরে জয়নাল আবেদীনের লাশ গ্রামের বাড়ি কালিহাতীর টেরকীকে আনা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

সকাল নয়টায় কালিবাড়ি ঈদগা মাঠে জয়নালের জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যন মাছুদুর রহমান বালা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শুকুর মামুদসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোক অংশ নেন।

এর আগে রোববার রাত ১০টায় জয়নালের লাশবাহী বিমান ঢাকা বিমান বন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমান বন্দরে জয়নালের লাশ গ্রহণ করেন তার চাচা নাজিম উদ্দিন।

নিহত জয়নাল আবেদীন (৩৫) টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার টেরকী গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে। দক্ষিণ আফ্রিকার নিউক্যাসল শহরে স্থানীয় সময় গত বুধবার (৮ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। জয়নালকে শেষবারের মত এক নজর দেখতে শতশত নারী-পুরুষ ভীড় করেছেন তাদের বাড়িতে। জয়নালের লাশ দেখে মা জাহানারা বেগম ও একমাত্র বোন জেসমিন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তাদের সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন স্বজনেরা।

মা জাহানারা বেগম বারবার বুক চাপড়ে শুধু বিলাপ করছিলেন ‘কে আমার এত বড় সর্বনাশ করল? যারা আমার সোনার টুকরা বাবারে মাইরা ফালাইছে, আল্লাহ তুমি তাদের বিচার কইরো। আল্লাহ তুমি আমার বাবারে মাফ কইরা দিও।’

নিহত জয়নাল আবেদীনের ছোট ভাই আলম জানান, সরকারি সা’দত কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স পাশ করে ২০১০ সালে জয়নাল আবেদীন দক্ষিণ আফ্রিকা যান। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নিউক্যাসল শহরে নিজেই একটি মুদি দোকান দেন। দোকানের পাশেই একটি ঘরে থাকতেন তিনি। ৮ মে রাতে কাজ সেরে জয়নাল ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে দোকানে ডাকাত আসে। বিষয়টি টের পেয়ে জয়নাল জানালা খুলে বাইরে উঁকি দেন। সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তরা তার কপালে ডান চোখের ঠিক ওপরে গুলি করে। গুলিটি মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে বন্ধুরা এসে ঘরের দড়জা ভেঙে জয়নালের লাশ উদ্ধার করেন। পরে তারাই বাড়িতে জয়নালের মৃত্যুর খবর দেন।

উল্লেখ্য, চার ভাই এক বোনের মধ্যে জয়নাল আবেদীন ছিলেন দ্বিতীয়। এর আগে ২০১৫ সালের রমজান মাসে ঢাকায় খুন হন জয়নাল আবেদীনের ছোট ভাই আমিন (২৫)। সোমবার ছোট ভাই আমিনের কবরের পাশেই কবর দেয়া হয় জয়নাল আবেদীনকে।

Related Articles