যৌতুকের জন্য নির্যাতন ॥ চিকিৎসকের সাময়িক বরখাস্তের দাবি স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলে কর্মরত চিকিৎসক স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের মামলায় জেল হাজতে ছিলেন ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিসের চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। হাজতবাস করলেও এখনো চাকরিতে বহাল আছেন তিনি। তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন তার স্ত্রী ও স্ত্রীর পরিবারের লোকজন।

শনিবার টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নির্যাতনের শিকার ওই নারী চিকিৎসকের মা জানান, ২০১৫ সালে তার মেয়ের সাথে ঝিনাইদহ শহরের বাসিন্দা এবং ওই জেলার সিভিল সার্জন অফিসের চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রসেজিৎ বিশ্বাসের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় দশ ভড়ি স্বর্নালংকার এবং নগদ পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয়।

বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আরো ১৫ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকেরা নানা ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। যৌতুক দিতে না পারায় ছয় সপ্তাহের গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েকে তার স্বামীর বাড়ী থেকে বের করে দেওয়া হয়। তখন থেকে ওই চিকিৎসক মেয়ে তার বাবার বাড়িতে রয়েছেন। তার গর্ভে জন্ম নেওয়া তিন বছরের ছেলে সন্তানটিও তার সাথেই রয়েছে। তিনি (চিকিৎসক মেয়ে) টাঙ্গাইলে স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত।

২০১৭ সালের ৭ মে ওই চিকিৎসকের পরিবারের পক্ষ থেকে পারিবারিক সমস্যার সমাধাণ চেয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়রের কাছে আবেদন করেন। ওই বছর ৩ জুন মেয়র উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে প্রসেজিৎ বিশ্বাস স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করার কথা স্বীকার করলেও পরবর্তীতে স্ত্রীকে আর বাড়িতে নেননি। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ করলে তিনি কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ওই চিকিৎসককে পরামর্শ দেন স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের।

২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ওই চিকিৎসক নিজে বাদি হয়ে তার স্বামী, দেবর ও শ্বাশুরির বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর চিকিৎসক প্রসেনজিৎ বিশ্বাস গত বছর ২৬ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে জেলা হাজতে পাঠিয়ে দেন। ১১দিন জেলহাজতে থাকার পর জামিনে মুক্ত হন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় প্রসেনজিৎ বিশ্বাস একজন সরকারি চিকিৎসক হয়ে হাজত বাস করেছেন। সরকারি চাকুরিজীবী হাজত বাস করলে সাময়িক বরখাস্তের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু ঝিনাইদহের তৎকালিন সিভিল সার্জন রাশেদা সুলতানাকে এ বিষয়টি জানানোর পরেও তিনি চিকিৎসক প্রসেনজিৎকে সাময়িক বরখাস্তের উদ্যোগ নেননি। তারা চিকিৎসক প্রসেনজিৎকে চাকুরি থেকে বরখাস্তের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতনের শিকার ওই নারী চিকিৎসক, তার শিশু সন্তান এবং আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সাবেক সিভিল সার্জন রাশেদা সুলতানা জানান, তিনি বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। প্রসেজিৎ বিশ্বাসের জেল হাজতে থাকার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সে সময় জানিয়েছিলেন।

Related Articles