টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় পলাতক আসামী দাতভাঙ্গা বাবুর আত্মসমর্পণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইল চাঞ্চল্যকর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার ৬ নং পলাতক আসামী ‘দাতভাঙ্গা’ বাবু আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদ কবিরের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া এই মামলায় দু’জন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলার পরবর্তী তারিখ ২১ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামী সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা আদালতে উপস্থিত হন। এ নিয়ে এ মামলায় এখন পর্যন্ত আদালতে মোট ২১ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে।
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানবীর আহম্মেদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে এ হত্যা মামলার আসামী রানা টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালতে আসেন। পরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদ কবির এ চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। এদিন তৎকালীন অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেন ও টাঙ্গাইল পৌর শহরের কলেজপাড়ার আব্দুল আলীমের স্বাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তারা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। এছাড়াও এই মামলার ৬নং পলাতক আসামী দাতভাঙ্গা বাবু আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এ আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ফারুক হত্যা মামলায় চলতি বছরের গত মার্চে এবং গত জুলাই মাসে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর গত ৯ জুলাই তিনি কারাগার থেকে বের হন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এবং ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রানা (তখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন) ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

Related Articles