জনসন পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি, ৩৯৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনকে চারশ ৭০ কোটি ডলার (৩৯ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানির ট্যালকম পাউডারের কারণে ওভারিয়ান ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার অভিযোগ তোলেন ২২ জন নারী ও তার পরিবার। সে অভিযোগ আমলে নিয়ে এ জরিমানা করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার মিসৌরি আদালতের বিচারকরা ২২ জন নারী ও তার পরিবারকে জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানিকে এ ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত। ওই ২২ জন নারী জনসন কোম্পানির বেবি ও বডি পণ্যে ক্যানসারের ঝুঁকির অভিযোগ তোলেন। তারা বলেন, কোম্পানিটি এ বিষয়ে সতকর্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
মিসৌরি আদালতের বিচারকরা নারীদের ক্ষতির জন্য শাস্তি হিসেবে ৩৪ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা জরিমানা করেন। এছাড়াও নারীদের ক্ষতিপূরণের জন্য জরিমানা করেন আরো ৪ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে দায়ের হওয়া আরো অন্তত ৯ হাজার অভিযোগ আদালতে ঝুলছে। এর মধ্যে শিশুদের জন্য জনসনের তৈরি পাউডারের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। জনসন অ্যান্ড জনসন বলছে, তারা আদালতের এই রায়ে গভীরভাবে হতাশ এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে এক নারীর আইনজীবী মার্ক লেনিয়ার বলেছেন, আদালতের বিচারের ছয় সপ্তাহ পর সেন্ট লুইসের বিচারক ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিপূরণের জরিমানা ৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু শাস্তি হিসেবে জরিমানা ৪৫ মিনিটের মধ্যে পরিশোধ করার কথা।

এ আইনজীবী আরো বলেন, জনসন অ্যান্ড জনসন ৪০ বছর ধরে ট্যালকম জাতীয় পণ্যের ব্যবসা করছে। তাদের পণ্যে ক্যানসারের ঝুঁকির সতকর্তা উল্লেখ করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, আদালত কক্ষে তাদের স্বজনরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল। এটা খুব আবেগঘন দৃশ্য।

ট্যালকম পাউডার তৈরির প্রধান উপাদান ট্যালক, যার রাসায়নিক নাম ম্যাগনেসিয়াম সিলিকেট; এটি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে নরম খনিজ পদার্থ। উইকিপিডিয়া বলছে, এতে রয়েছে অ্যাসবেস্টস; অ্যাসবেস্টস হল প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত ছয় সিলিকেট খনিজের একটি সেট। যা তার সুবিধাজনক প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যর কারণে বাণিজিকভাবে ব্যবহৃত হয়। রেশম ও পশমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এই খনিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনেক মিল দেখা যায়।

অ্যাসবেস্টস আঁশের দীর্ঘায়িত শ্বসন ফুসফুসের ক্যান্সার, মেসোথেলিয়মা, এবং অ্যাসবেস্টস এর মত গুরুতর অসুস্থতার সৃষ্টি করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অ্যাসবেস্টসের সকল প্রকার নিষ্কাশন, উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

জনসন অ্যান্ড জনসন তাদের পণ্যে অ্যাসবেস্টস থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের পণ্য ব্যবহারে ক্যান্সার হওয়ার শঙ্কা নেই। প্রতিষ্ঠানটি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে জানিয়ে বলছে, কারণ তারা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ওই পাউডার তৈরি করছে।

জনসনের আইনজীবী বলেন, বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে তাদের ট্যালকম পাউডার নিরাপদ এবং পণ্যে ক্যান্সার ছড়ানোর মত ক্ষতিকারক কোনো উপাদান নেই। একই সঙ্গে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া অন্যায্য বলেও দাবি করেছে মার্কিন এই বহুজাতিক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান।

এদিকে, ২০০৯ ও ২০১০ সালে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জনসন অ্যান্ড জনসন-সহ আরো বেশ কয়েকটি কোম্পানির পাউডারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালায়। পরে এই পরীক্ষায় জনসনের পাউডারে অ্যাসবেস্টস পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।

আদালতকে আইনজীবীরা বলেন, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করে পরীক্ষা চালিয়েছে।

এর আগে গত বছর একই ধরনের অভিযোগকারী এক নারীকে চারশ ১৭ মিলিয়ন (৪১ কোটি ৭০ লাখ) ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় মার্কিন এই বহুজাতিক কোম্পানিকে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত এ নির্দেশ দেন। তবে বেশ কয়েটি মামলায় আপিলের রায় জনসনের পক্ষে যায়।

Related Articles