টাঙ্গাইলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৯ দোকান ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

টাঙ্গাইলের মগড়া বাজারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৯টি দোকান ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। শনিবার(১ ফেব্রুয়ারি) সকালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। আহতরা হচ্ছেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে মো. শাহজাহান আলী(৬৫) ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম(৫০)। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানাগেছে, কালিহাতী উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের মগড়া বাজারে মৃত ইউনুস আলী তার তিন ছেলে মো. শাহজাহান আলী, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও আলমগীর হোসেনের নামে ১৯৯১ সালে সুধীর চন্দ্র কর্মকারের কাছ থেকে ১৭ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন। ওই ভূমির উপর রাস্তার পাশে ৯টি দোকান এবং দোকানগুলোর পেছনে মৃত ইউনুস আলীর বড় ছেলে মো. শাহজাহান আলী বসতবাড়ি তৈরি করেন। গত তিন বছর পূর্বে তিন ভাইয়ের মধ্যে দোকান ও জমির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ইতোপূর্বে এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশহয়। এরইমধ্যে মো. শাহজাহান আলীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত উল্লেখিত ভূমির উপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

সর্বশেষ গত ২৪ জানুয়ারি(শুক্রবার) টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ সুপার(কালিহাতী সার্কেল) মনির হোসেন, কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন, দশকিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এমএ মালেক ভূঁইয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মিমাংসা নিয়ে বৈঠকে বসেন। কিন্তু ওই বৈঠকেও বিষয়টির কোন সমাধান হয়নি। এরপর থেকেই মো. শাহজাহান আলী ও তার পরিবারকে প্রতিপক্ষ তার ভাইয়েরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি মো. শাহজাহান আলী এলেঙ্গা রিসোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ভাইদের দোষারোপ করে বক্তব্য রাখেন।

আহত মো. শাহজাহান আলী জানান, ওই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার জের ধরে শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাহাঙ্গীর আলম ও আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঠা নিয়ে হামলা চালিয়ে তার ৯টি দোকান ও বসতবাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে মো. শাহজাহান আলী ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন।

অভিযুক্তদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম জানান, ৯টি দোকানের মালিক তারা তিন ভাই। বড় ভাই মো. শাহজাহান আলী জোর করে ৯টি দোকানই ভোগদখল করছিলেন। ভাগের অংশ দাবি করায় তিনি নানা তালবাহানা করছেন।
দশকিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এমএ মালেক ভূঁইয়া জানান, দীর্ঘদিন যাবত বিষয়টি নিয়ে তিন ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছে। একাধিকবার গ্রাম্য সালিশে বসেও তাদের গোয়ার্তুমির কারণে বিষয়টি সমাধান করা যায়নি। মগড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আব্দুল বারী বলেন, শনিবারের ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে এ পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(মজলুমের কণ্ঠ/১ ফেব্রুয়ারি/আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles